Sunday, June 12, 2016

বিশু পাগল | সুজয় চক্রবর্তী

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে এ... thumbnail 1 summary
সুজয় চক্রবর্তী | ছায়াপথ

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে একে সবাই 'না' করে দিচ্ছে ঘটক মারফৎ; তখন বাবা ওকে বললো, " তোর মতো মেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে.....।"

মরলো। নন্দিতা শেষ পর্যন্ত মরলোই। গায়ে আগুন লাগিয়ে।
পাড়ার বিশু পাগলের কাছে  নন্দিতা খুব প্রিয় ছিলো। রাস্তায় দেখা হলে খেয়েছে কি না জানতে চাইতো। না খেয়ে থাকলে পাড়ার মুদির দোকান থেকে এটা-সেটা কিনে দিতো নন্দিতা। কখনও বা বিশুর হাতে পাঁচ-দশ টাকা গুঁজেও দিতো।
বিমলের চায়ের দোকানে নন্দিতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। সন্ধেবেলা। বিশু দূরে দাঁড়িয়ে চুপ করে সব শুনছিলো। এর জন্য নাকি সমাজই দায়ী।

'সমাজ' কী, বিশুর কাছে অতোটা পরিস্কার না। কিছুটা সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পিছনের দিকে ঘুরে গেলো বিশু। তারপর ডান হাত তুলে কাউকে ডাকার ভঙ্গিতে বলে উঠলো, "এই হারামির বাচ্চা সমাজ! আয়, তোরেও গায়ে কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই...।"

No comments

Post a Comment