Saturday, June 4, 2016

স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬ পেলেন গল্পকার মেহেদী সম্রাট

ছোটগল্প ও অণুগল্পে গতিশীল চিন্তা আর স্থির লক্ষ্যের জন্য তারুণ্যের উৎসাহমূলক এ্যাওয়ার্ড "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬" ... thumbnail 1 summary

মেহেদী সম্রাট - স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬

ছোটগল্প ও অণুগল্পে গতিশীল চিন্তা আর স্থির লক্ষ্যের জন্য তারুণ্যের উৎসাহমূলক এ্যাওয়ার্ড "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬" পেয়েছেন তরুণ গল্পকার মেহেদী সম্রাট।


নারায়ণগঞ্জের গিয়াসউদ্দিন মডেল কলেজের অবিভাবক মিলনায়তনে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত মধুমাসের সাহিত্য আড্ডা ও “স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

‘স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সংঘ’র আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আনন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছড়াকার স,ম সামসুল আলম, ছড়াকার মাহমুদউল্লাহ্, সিরাজুল ফরিদ, ছড়াসম্রাট জগলুল হায়দার, সিদ্দিকীয়া পাবলিকেসন্স এর প্রকাশক ছড়াকার মালেক মাহমুদ, তুষারধারা লিটলম্যাগের সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মামুন, বাবুই ম্যাগাজিনের সম্পাদক কাদের বাবু, চমৎকার লিটলম্যাগের সম্পাদক মোজাম্মেল প্রধান, ছড়াময় লিটলম্যাগের সম্পাদক আহমাদ স্বাধীন ও অনেক গুণী সাহিত্যিকবৃন্দ।

মেহেদী সম্রাট তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “প্রাণের তাগিদে গল্প লিখি আমি। চেষ্টা করি গল্পের মাধ্যমে সামাজিক অসঙ্গতিগুলোকে তুলে ধরতে। চেষ্টা করি গল্পের মাধ্যমে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, হানাহানি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। হৃদয়ে মিশে আছে যে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম সেসবও গল্পের মধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর আমি। বাস্তব জীবনবোধ ও রোমান্টিকতা নিয়ে লিখতেও চেষ্টা করি। কিন্তু তবুও এখনো নিজেকে পুরষ্কার পাবার যোগ্য মনে করি না। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা আমাকে "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা -২০১৬" এর জন্য মনোনীত করেছেন। এতে করে সর্বোপরি সাহিত্যের প্রতি আমার দায় আরো বেড়ে গেলো। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য, পুরষ্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হলো, আমি যেন বাংলা সাহিত্যের জন্য সে দায়িত্বটুকু সফল ভাবে পালন করতে পারি।"

মেহেদী সম্রাট বেশ কয়েক বছর যাবত অণুগল্প ও ছোটগল্প নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করার পাশাপাশি অবিরত লিখে চলেছেন। বিশেষ করে অণুগল্পকে বিশ্ব সাহিত্যের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, লিটল ম্যাগ, অনলাইন পত্রিকা ছাড়াও ভারতের পত্র-পত্রিকায়ও তার গল্প প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রবীণ ও তরুণ দুই ক্যাটাগরিতে ১০ জনকে এ বছর স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান করা হয়। পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন--
(প্রবীণ)- সিরাজুল ফরিদ, স ম শামসুল আলম, মতিউর রহমান মনির, সায়রা মুন্নি, নজরুল ইসলাম শান্তু, জাহাঙ্গীর ডালিম, আনিছুর রহমান হৃদয়, মোঃ শহিদুল ইসলাম মুসাফির,
(তরুণ)- মেহেদী সম্রাট এবং আপন অপু।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অনুগল্প | কান্না | মোহাম্মদ সামির

মেয়েটার হঠাৎ কিছু টাকা দরকার হওয়ায়  সে তার বিএফকে ফোন করেছে-- ছেলে- হ্যালো। জানু কী করছো? মেয়ে- তেমন কিছু না। ছেলে- কেন? মেয়ে- এমনি... thumbnail 1 summary
কান্না-Girls Crying - মেয়ের কান্না - দুঃখ - Girl Friend

মেয়েটার হঠাৎ কিছু টাকা দরকার হওয়ায় সে তার বিএফকে ফোন করেছে--

ছেলে- হ্যালো। জানু কী করছো?
মেয়ে- তেমন কিছু না।
ছেলে- কেন?
মেয়ে- এমনি তেমন কিছু না।
ছেলে- সত্যি করে বলো, তোমার কণ্ঠ এমন কেন?
মেয়ে- কই, কেমন?
ছেলে- অন্য রকম লাগছে, কেন ফোন করেছো, সত্যি করে বলো।
মেয়ে- এমনি করেছি ফোন, কেন তোমাকে যখন ইচ্ছা ফোন করতে পারবো না?
ছেলে- না সেটা না। কথা হলো তোমার কলেজ টাইমে তুমি কখনও ফোন করো না, তাই বললাম।
মেয়ে- না মানে আসলে হয়েছে কী, আমার কিছু টাকা লাগবে। আজকে আমাদের কলেজে ফর্ম ফিলাপ করার লাস্ট ডেট তো। আর আমার এক বান্ধবি ভুল করে টাকা ওর টেবিলে ফেলে এসেছে, আর ওর বাড়িতে এমন কেউ নেই যে টাকাটা দিয়ে যাবে। তোমার তো মোবাইল ব্যাংকিং আছে সেখান থেকে যদি টাকাটা দিতে...। পরে তোমাকে দিয়ে দিতাম।
ছেলে- থাপ্পড় চেনো, ফাজিল 
মেয়ে?

কথাটা শুনে মেয়েটার চোখে জল এসে গেল। অভিমান এবং অপমানের জল । আজকে ৪ বছর তাদের সম্পর্ক।কখনো কিছু চায়নি মেয়েটা ছেলেটার কাছে। আজকে খুব সমস্যায় পড়েছে বলেই চেয়েছে, তাও বান্ধবীর জন্য।অনেক বড় গলা করে বান্ধবীদের সাথে কথা বলতো তাকে নিয়ে। ছি ছি আজকে কী করে মুখ দেখাবে বান্ধবির কাছে?
কোন রকমে কান্না আটকে মেয়েটা আবার কথা বলছে-
সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।
অবশ্যই ভুল হয়েছে। হাতের কাছে পেলে দুইটা থাপ্পড় দিতাম।

(কান্না কণ্ঠে) আমি মাফ চাইছি, ভুল করে ফেলেছি।
পাগলী তোমার উপরে আমার এই কারণেই রাগ হয়। তোমার টাকা লাগবে, ভালো কথা। সেটা তুমি আমাকে এই ভাবে কেন বললে? আমি কি এত কিছু জানতে চেয়েছি? তুমি যে কোন একটা এটিএম বুথের কাছে গিয়ে বলবে এই শুনো, আমি এই বুথে আছি তুমি তোমার মোবাইল ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড মোবাইলে মেসেজ করো। কতো টাকা লাগবে বা কেন লাগবে এইসব কেন বলতে গেলে? তাই আমি রাগ করছি...।
তোমাকে পরে পেলে পাঁচটা থাপ্পড় দেবো। আমার একাউন্টের সব টাকাইতো তোমার টাকা। পাগলী, নিজের একাউন্টের টাকা তুলতে আবার বলতে হয়? এইবার একটু হাসো...


কান্না-Girls Crying - মেয়ের কান্না - দুঃখ - Girl Friend

মেয়েটা এখনও হাসার বদলে কাঁদছে। তবে সেটা খুশির কান্না, ভালবাসার বিশ্বাসের কান্না। ছেলেটা কতোটা বিশ্বাস করে আমাকে...।
সত্যি মেয়েটা নিজেকে পৃথিবীর ভাগ্যবান লোককেদের মধ্যে একজন মনে করছে নিজেকে। জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো ভালবাসার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা।

Friday, June 3, 2016

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর কবিতা | অংশ

দুঃখ সে নয় শুধুই আমার একার, তোমারও কিছু অংশ আছে তাতে। বিনিড়ঘন ব্যথার পাশাপাশি তুমিও মিশে আছো আমার সাথে। দুঃখ সে-ও নেশার মতো লাগে য... thumbnail 1 summary
দুঃখ কবিতা Sad Poem নির্মলেন্দু গুণ

দুঃখ সে নয় শুধুই আমার একার,
তোমারও কিছু অংশ আছে তাতে।
বিনিড়ঘন ব্যথার পাশাপাশি
তুমিও মিশে আছো আমার সাথে।

দুঃখ সে-ও নেশার মতো লাগে
যদি ওটা তোমার দেয়া হয়,
অন্য যতো দুখের কথা জানি
তার কোনোটাই তোমার মতো নয়।

তুমি আমার ভিতর বাড়ি চেনো
তাই সহজেই প্রবেশ করো মূলে,
যারা আসে সুখের স্বপ্ন নিয়ে
হারায় তারা পথের হুলস্থুলে।

ফারুক নওয়াজ-এর কবিতা | যখন তুমি পদ্য লিখবে

যখন তুমি পদ্য লিখবে, ছন্দোবদ্ধ হতেই হবে... অন্ত্যমিলের দক্ষতাটা ব্যাকরণের মতেই হবে। অন্ত্যমিলটা ছন্দ না ঠিক; ছন্দ হলো চলার গতি- কিন্তু... thumbnail 1 summary
যখন তুমি পদ্য লিখবে, ছন্দোবদ্ধ হতেই হবে...
অন্ত্যমিলের দক্ষতাটা ব্যাকরণের মতেই হবে।
অন্ত্যমিলটা ছন্দ না ঠিক; ছন্দ হলো চলার গতি-
কিন্তু মিলে ভেজাল দিলে সৃষ্টিটারই করলে ক্ষতি।
বৃষ্টি নিয়ে লিখছ তুমি মনের আবেগ ঢেলে সবি...
‘ঢেলে’র সঙ্গে ‘বিলে’ দিলে ভাববে সবাই উটকো কবি।
‘বাড়ি’র সঙ্গে ‘গাড়ি’, ‘শাড়ি’,-- পারো এসব শব্দ দিতে;
তা না দিয়ে ‘গড়াগড়ি’ দিলেই সেটা লাগবে তিতে।
ছন্দ বোঝো? নেই প্রয়োজন ছন্দ-জ্ঞানের কেতাব পড়ে;
লেখার পরে পড়বে সেটা আস্তে আস্তে শুদ্ধ করে।
পড়লে যদি সেই লেখাটা ওষ্ঠে-কানে বেঢপ ঠেকে...
ভাববে সঠিক হয়নি লেখা; দৃষ্টি বোলাও শুরুর থেকে।
পড়ার সময় বাঁধলে ঠোঁটে, কর্ণে যদি খটকা লাগে-
আচ্ছা করে ঝালাই করো, পোস্ট করো না পড়ার আগে।
ও বুঝেছি ভালোই পারো, ছন্দে তুমি দক্ষ ভারী...
এবার দেখো বানানগুলো; সঙ্গে রাখো ডিকশনারি।
বানান ভুলের কারণ হলে পাঠক তোমায় চিমটি দেবে;
লিখতে হবে ছন্দ, বানান, মাত্রা বুঝে একটু ভেবে।
ভাবতে হবে নতুন কিছু... যা ভাবেনি অন্যে আগে...
তোমার লেখা পড়েই যেন সবার মনে পুলক জাগে।
তোমার মাঝে শক্তি আছে পারবে তুমি লিখতে সঠিক-
ভুল লেখাটা পোস্ট করো না যতোই লোকে হাততালি দিক...! 

Wednesday, June 1, 2016

শাহানা সিরাজীর কবিতা | প্রাচীর

এখানে প্রাচীর থাকতে পারে না চেতনায় চেতনায় গল গল অতঃপর শান্ত অতঃপর পহরার সব চিহ্ন হাঁসের ডানার শেষ জলবিন্দুর মত ঝরে যায় স্পর্শের গভীরে... thumbnail 1 summary

এখানে প্রাচীর থাকতে পারে না
চেতনায় চেতনায় গল গল অতঃপর শান্ত
অতঃপর পহরার সব চিহ্ন হাঁসের ডানার শেষ জলবিন্দুর মত ঝরে যায়
স্পর্শের গভীরে অপত্য চুম অকালের সকালকে হাত ধরে দুপুরে পৌছায়
জাগালে কেন
জাগিয়ে তোল
বিশুদ্ধ স্নানের ঘ্রাণ মাতাল সময়কে অস্থির করে
কাছে এসো
আরো কাছে
ভোর এসে জানালার পর্দা সরায়...

প্রিয়ার পরশে | দীন মুহাম্মদ

সারা দিনরাত কথা বলেও কখনো কখনো হয় না কিছুই বলা।  শুধু প্রিয়ার চোখে চোখ রেখেও হয়ে যেতে পারে অন্তহীন কথা বলা। সারাদিন ধরে হেঁটে হেঁট... thumbnail 1 summary


সারা দিনরাত কথা বলেও
কখনো কখনো হয় না কিছুই বলা। 
শুধু প্রিয়ার চোখে চোখ রেখেও
হয়ে যেতে পারে অন্তহীন কথা বলা।
সারাদিন ধরে হেঁটে হেঁটেও
কখনো কখনো হয় না পথ চলা।
শুধু প্রিয়ার সাথে দু পা হেঁটেই
হয়ে যেতে পারে অন্তহীন পথ চলা।
অনেক পেয়েও কারো কারো বুকে
রয়ে যেতে পারে কিছু না পাওয়ার ক্ষুধা ।
যদি বুক ভরা শুধু ভালোবাসা পায়
তা-ই হতে পারে তার জীবনী-সুধা।
শত বছরের দীর্ঘ জীবনও
কখনো হতে পারে মুল্যহীন।
শুধু প্রিয়ার সাথে একরাত জাগা
হয়ে যেতে পারে সুখনিশি অন্থহীন।

শাহানা সিরাজীর কবিতা | দোদুল

অভিযোগ সব দায় বহন করে না রাতের গভীরতাও মাপা যায় না কালের চক্রে বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী রূপ-রূপক এক নয় বলেই ভিন্ন আয়োজন সরল রেখার শুরু ... thumbnail 1 summary


অভিযোগ সব দায় বহন করে না
রাতের গভীরতাও মাপা যায় না
কালের চক্রে বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী
রূপ-রূপক এক নয় বলেই ভিন্ন আয়োজন

সরল রেখার শুরু আছে শেষ কোথায়?
মনাড়াল নিরন্তর অশ্রুপাতে মলিন
অথচ প্রদীপ এখনো জ্বলছে
খতের বিবরণ লেখা হয় না কোন খাতায়

যখন ঝড় আসে ভারাক্রান্ত দেয়াল স্যাঁতস্যাঁতে
অাঁধারের গোপন কথাটি বুঝতে গিয়ে আবার ঝরে
কেউ হাততালি দেয় কেউ মুখ ফেরায়
                                   কেউ স্বপ্ন হাতে
নরম মাটিতে দোদুল পা ফেলে বিস্মিত হই

কতবার মরলে তাকে মৃত্যু বলা যায়?
পথ আর সময় কে কার হয়?

Monday, May 30, 2016

কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা | কারার ঐ লৌহ-কপাট | ভাঙ্গার গান

কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর্ রে লোপাট,                            রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী। ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্র... thumbnail 1 summary

কারার ঐ লৌহ কপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর্ রে লোপাট,
                           রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!
                 ধ্বংস নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।

গাজনের বাজনা বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা?
                 কে দেয় সাজা
মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি,
ভগবান পরবে ফাঁসি।
                    সর্বনাশী
শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!

ওরে ও পাগলা ভোলা!
দে রে দে প্রলয় দোলা
                  গারদগুলা
জোরসে ধরে হ্যাঁচকা টানে।
মার হাঁক হায়দারী হাঁক,
কাধে নে দুন্দুভি ঢাক
         ডাক ওরে ডাক,
মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!

নাচে ওই কালবোশেখী,
কাটাবি কাল বসে কি?
               দে রে দেখি
ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি।
লাথি মার, ভাঙ্গরে তালা!
যত সব বন্দী শালায়-
                আগুন-জ্বালা,
আগুন-জ্বালা, ফেল্ উপাড়ি।।

কবিতা | মায়াকান্না

| মাসুম মুনাওয়ার | মায়াকান্নায় দরজা খোলে না মনের ঘরে কপাট পড়ে চুপিসারে দুনিয়ার আগুন উল্টো ধরে ভিতর থেকে পুড়তে থাকে প্রতিটি কোষ বাইরে... thumbnail 1 summary

| মাসুম মুনাওয়ার |


মায়াকান্নায় দরজা খোলে না
মনের ঘরে কপাট পড়ে চুপিসারে
দুনিয়ার আগুন উল্টো ধরে
ভিতর থেকে পুড়তে থাকে প্রতিটি কোষ
বাইরের আগুনে শরীর পুড়ে না
ভিতরের আগুনে ক্ষত হয় হৃদয়, পাকস্থলি
বাইরে ভদ্রলোক, সুস্থ স্বাভাবিক
পুড়ে যাওয়া মস্তিস্কে পাগলামি চাপে
মানুষের অস্বাভাবিক আচরণ স্থান পায়
হাতে পায়ে চোখে মুখে এমন কী গুপ্তাঙ্গে
বিকৃত মেজাজে চাটতে থাকে নিজের গুপ্তস্থান
মায়াকান্নায় তবু দরজা খোলে না

গল্প | পরীর স্মৃতি || ছায়াপথ ওয়েবম্যাগ

| মিনহাজ ফয়সল | আজ অভির ভীষণ মন খারাপ। বিষন্ন মন নিয়ে প্রতিদিনের মতো আজও অভি তার বারান্দায় পায়চারি করছে আকাশের তারার সাথে কথা বলতে। ক... thumbnail 1 summary

| মিনহাজ ফয়সল |


স্মৃতি - মিনহাজ ফয়সল

আজ অভির ভীষণ মন খারাপ। বিষন্ন মন নিয়ে প্রতিদিনের মতো আজও অভি তার বারান্দায় পায়চারি করছে আকাশের তারার সাথে কথা বলতে। কিন্তু আজ যেন তারাগুলোও তার সাথে লুকোচুরি খেলছে। এক সময় এই তারারাই ছিলো তার সকল সুখ-দুঃখের সঙ্গী। অথচ আজ তারাও বেঁকে বসেছে। তারারাও আজ অভির উপর মন খারাপ করে আছে। অভির কথায় সাড়া দিচ্ছে না তারা। অভি জানে একদিন কেউ আর তার কথায় সাড়া দিবে না। অপরাধবোধ আজ ভীষণ ভাবে নাড়া দিচ্ছে অভির মনে। স্মৃতিগুলো আজ পেছন তাড়া করছে ভীষণ। কোনভাবেই অভি সেই স্মৃতিগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগুতে পারছে না আর। স্মৃতিচারণেরও সময় হয়ে উঠেনি তার। অথচ আজ সে সেই স্মৃতির পাতাগুলোকে এড়িয়ে যেতে পারছে না কোনোভাবে।

ইদানিং প্রতিটা মুহূর্তে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অভিকে।  বিয়েটা এখনো করা হয়নি কেন তার? বয়স তো কম হল না। পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই করছে। এ প্রশ্নের কোন উত্তর যে তার কাছেও নেই সেটা সে কাউকে বোঝাতে পারে না । কোন অনুষ্ঠানে কিংবা ব্যক্তিগত কাজের কোন মিটিং-এ কোথাও গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে না সে। পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে এই একটা প্রশ্নই কেন আজ অভিকে এতোটা অস্থির করে রাখছে সে তা জানে না। পরিবারের কাছেও সে নিরুত্তর। বিয়ের ব্যাপারে এতো চাপ তার আর ভালো লাগে না ।

মনে পড়ে যায় তার ছাত্রজীবনের কথা। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরই গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করে অভি। কাজের সুবাদে অনেক ছাত্রকেই পড়াতে হতো তার। অনেকটা পেশা হয়েই দাঁড়িয়েছিল প্রাইভেট টিউশনটা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এসএসসি পরীক্ষার্থী পরীকে পড়াতে গিয়েই তার জীবনের মোড়টা ঘুরে গেলো অন্যদিকে। দিন দিন পরির প্রতি দুর্বলতা বাড়তে থাকলো। ধীরে ধীরে অভি বুঝতে পারলো পরীও তাকে ভালবাসে।

যতোই দিন যাচ্ছিলো পরীর প্রতি অভির অনুভূতিগুলো যেন আরো গভীর হচ্ছিলো। বিরামহীন ভালোলাগায় মগ্ন তখন অভি। নিজের ভালোলাগা ভালোবাসার অনুভূতিগুলোকে আরও গভীরভাবে প্রকাশের জন্য একটা সময় অভি কলম হাতে তুলে নেয়। পরীকে তিল তিল করে ভালোবেসে ফেলার সমস্ত প্রকাশ উঠে আসলো তার কলমের আঁচড়ে। পরীকে বোঝানোর সাথে সাথে আরো বেশী করে অনুধাবন করানোর জন্যে কলমটাই বেছে নিয়েছিল অভি। সে তাঁর সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে ভালোবাসতো পরীকে। তার যতো কবিতা লেখা হতো সব পরীকে নিয়ে। দিন যেতে যেতে লেখালেখি যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠলো।
এদিকে পরীর অনেক প্রত্যাশা অভির প্রতি। অভিও সেটা পূরণ করার চেষ্টা করতো। তার যতটুকু সামর্থ আছে ততোটুকু থেকে কখনো বঞ্চিত করেনি অভি; প্রতিটা মুহূর্তে প্রত্যাশা থেকে বেশি কিছুু দেয়ার প্রচেষ্টা থাকতো তার। দিন যাবার সাথে সাথে তাদের সম্পর্ক আরো গভীর হচ্ছিল। সম্পর্কে কোন বাধা আসেনি তখনো। এভাবেই চলছিল তাদের।

একটা সময় অভি লেখালেখি নিয়ে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পরীকে নিয়ে তার লেখাগুলো প্রকাশ হতে থাকলো। এদিকে যাকে নিয়ে তার এই লেখালেখির জগতে আসা, তাকে আগের মতো সময় দেয়া হচ্ছে না অভির। অথচ একটা মুহূর্তের জন্যও মনের অগোচর করতে পাওে না পরীকে। সারাক্ষণ মনে বিরাজ করে তার মনমানসী পরী। তার প্রতিক্ষণের ভাবনা জুড়ে শুধু পরী। কিন্তু সময়ের অভাবে যোগাযোগটা অনেক কমে আসে তাদের। অভিমানী পরী এই কমটুকুও সহজে মনে মেনে নিতে পারেনি। তবুও অভি আর আগের মতো সময় দিতে পারে না তার পরীকে। ধীরে ধীরে অভি লেখক হিসেবে অনেক পরিচিতি লাভ করে; অল্প সময়ে অনেক সুনাম ছড়িয়ে পড়লো অভির। অভি নামটা হয়ে উঠলো  তরুণ লেখক সমাজের এক পরিচিত নাম। খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে।  নাম, যশ,খ্যাতির পাশাপাশি ভক্তের সংখ্যাও বাড়তে থাকলো। সব কিছুর শেষে অভির হাতে আর অবশিষ্ট কোন সময় থাকতো না পরীর জন্য। অথচ এই পরীকে নিয়েই তার যত নাম, যশ, খ্যাতির শুভ সূচনা। এই ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই একটা সময় পুরোটাই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় পরীর সাথে। প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকে পরী। কিন্তু  অভির সান্নিধ্য আর পেল না পরী। প্রচ- অভিমান আর জেদের বশবর্তী হয়ে একটা সময় জীবনের সব থেকে মূল্যবান সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলে পরী।
পরিবারের পছন্দে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যায় পরী। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল অভির জন্যে। অভি আসেনি। নিয়ম মতো সে তার লেখালেখির জগতে মহাব্যস্ত হয়ে থাকে। পরীর ধারনা অভি হয়তো ভুলে গেছে পরী নামটাই।

স্মৃতি - মিনহাজ ফয়সলএকটা সময় সম্বিত ফিরে পায় অভি। সময়ের আবর্তে ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, অভি ভুলে যায়নি তাকে। তার হৃদয় জুড়ে শুধুই পরী। তার প্রতিটা লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র সে; সেই পরীকে কি করে ভুলবে অভি? এদিকে পরী সংসার জীবনে পা রাখলেও পারেনি ভুলে যেতে তার অতীত জীবন। একটা মুহূর্তও থাকতে পারে না অভিকে নিয়ে না ভেবে। জেদ আর অভিমান পরীকে সুখ দিতে পারবে না জেনেও পরী ঐ মুহূর্তে কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আজ প্রতিটা মুহূর্তে উপলদ্ধি করে অভির ভালোবাসা। সুখ নামক অলীক বস্তুটি ধরা দেয়নি পরীর কাছে। অভি জানে তার পরী সুখে নেই; তবু তো আছে একজনের ছায়ার নিচে। এ কথা ভেবে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে আজ।

অনেক বছর কেটে গেছে এর মধ্যে; আজও বিয়ে নামক ঐ নৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়নি অভি।
অভির মন আজও পড়ে আছে পরীর কাছে। পরী চলে গেলেও অভি তো মন থেকে আজও পরীকেই ভালোবাসে; মুছে ফেলতে পারেনি পরীর কোন স্মৃতি। কিন্তু আজ অভি সবাইকে বোঝাতে অক্ষম যে সে কেন তার ভালোবাসার স্বাধীনতাটুকু হারাতে চায় না।
সাহিত্য জগতে অভির খ্যতির শেষ নেই। তবু আজও একাকী জীবন যাপন করছে সে। পরীর দেয়া ভালোবাসা আজও লালন করে দিনাতিপাত করছে অভি। বিষণœতায় বিভোর অভি এখন প্রতি রাতে এই বিশাল আকাশের মাঝে তার চির চেনা তারাদের সাথে কথোপকথনে মগ্ন থাকে।
পরীকে ভুলে যেয়ে অভি চায় না আবার নতুন কোন সম্পর্কে জড়াতে; চায় না নতুন কাউকে ভালোবেসে পরীর স্মৃতিটুকু জীবন থেকে মুছে ফেলতে। অভি চায় যতো দিন বেঁচে থাকবে, এভাবে একাকী নির্বিঘ্নে তার মন-মানসীকে ভালোবেসে যেতে।

কবিতা | সৌখিন দরগায় || ছায়াপথ ওয়েবম্যাগ

| মাসুম মুনাওয়ার | বসন্তে যখন রোদ ঠিক মাথার উপর বসে তখন ঝির ঝিরে বৃষ্টি আমার সাজানো কোলে দমকা হাওয়ায় যখন পাতা ঝরে শিকড়ে আমার বাগানে ... thumbnail 1 summary

| মাসুম মুনাওয়ার |

বসন্তে যখন রোদ ঠিক মাথার উপর বসে
তখন ঝির ঝিরে বৃষ্টি আমার সাজানো কোলে
দমকা হাওয়ায় যখন পাতা ঝরে শিকড়ে
আমার বাগানে তখন কলি ফোটে কান্ড গজায়

ফাগুনে আগুন আসে চৈত্র নামে মাঠে
অভাগার তরী ডুবে নাউ বাঁধা ঘাটে
অতপর নদীর পানি স্বাভাবিক বয়ে যায়
বসন্ত এসে দাঁড় বায় সৌখিন দরগায়।

গল্প | মাটির টানে

| খান মেহেদী মিজান | বিনোদপুর গ্রাম। কীর্তিনাশার পাড় ধরে সবুজ বনানীর ছায়া ঘেরা পরিবেশে গ্রামখানি। একসময় কীর্তিনাশার বুকজুড়ে জোয়ার-ভাটার ত... thumbnail 1 summary
| খান মেহেদী মিজান |

বিনোদপুর গ্রাম। কীর্তিনাশার পাড় ধরে সবুজ বনানীর ছায়া ঘেরা পরিবেশে গ্রামখানি। একসময় কীর্তিনাশার বুকজুড়ে জোয়ার-ভাটার তীর ছাপানো প্রমত্ততা থাকলেও নদীটির মোহনা মরে গিয়ে এখন মরাগাঙে রূপ নিয়েছে। তাই কেউ কেউ মরা নদীকে মরাগাংপাড় বলে উল্লেখ করে থাকে। এখানকার মানুষগুলো খুবই সহজ-সরল। কৃষি কাজের মাধ্যমে গায়ে খেটেই জীবিকার সন্ধান করে থাকে। স্থানীয় গয়াতলা হাট বা বাজার নামে সপ্তাহে দুদিন বিকেল বেলা বেচাকেনার পসরা বসে। সেখান থেকেই বাকী কয়দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদাপাতী কিনে থাকে গ্রামবাসী। হাটবার ছাড়া মেহমান এসে পড়লে বাড়িতে পালিত হাঁস-মুরগী ও গাভীর দুধ দিয়েই মেহমানদারী করানো হয়। এছাড়া বাড়ীর আঙিনায় ফলানো ও আশপাশের ক্ষেতের আইল থেকে তুলে আনা শাক-সবজি দিয়েই পেটে ভাত দিতে হয় নিজেদের। তবে বেশ কয়েক বছর যাবৎ এলাকার চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বিদ্যুত সংযোগ পাওয়ায় এবং কিছু লোক মধ্যপ্রাচ্যে থাকার কারণে দুই-এক বাড়ীতে ফ্রিজ এসেছে ইতোমধ্যে। এবং সেসব বাড়ীতে ধরনা দিয়ে প্রতিবেশিরা মেহমানদের জন্য দু’এক পোটলা মাছ-মাংস রেখে দেয়। অবশ্য এজন্য কম গোঙানী শুনতে হয় না।
কিন্তু হাতে গোনা হলেও এখানকার বেশ কয়েকটি পরিবার শিক্ষা-দীক্ষার সুযোগ পেয়ে ঢাকা শহর এবং বিদেশে চাকরী ও ব্যবসা-বানিজ্য করে শিল্পপতি বনে গেছে। রাজধানীতে বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি করে সুখেই জীবন পার করছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকেই গ্রামে ফিরে না। কিন্তু তরুণ শিল্পপতি আবদুল  হামিদ সাকিদার দেশ-বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি রেখেও শৈশব স্মৃতি ও মাটির টানে গ্রামে ফিরে আসেন বার বার। এমনকি গ্রামে একটি বিশাল বাগান বাড়িও করেছেন প্রকৃতির নির্মল বাতাস সেবন ও গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মাঝে নিজেকে মিলিয়ে বিলিয়ে দেয়ার জন্য। এমনকি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নিন্ম আয়ের মানুষগুলোর ভাগ্যের চাকা কিভাবে ঘুরানো যায়, এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শিক্ষার হার বাড়ানো এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একটি হাসপাতাল ও একটি বৃদ্ধাশ্রম করার পরিকল্পনা তার মাথায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর এ ব্যাপারটি তিনি এলাকার সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি মাষ্টার মিজান খানের সাথে আলোচনাও করেছেন। মাষ্টার মিজান খান তার এসব ভালো চিন্তার প্রস্তাবগুলোকে জনকল্যাণ মনে করে সাধুবাদ জানান এবং সুযোগ পেলে নিজেকে সম্পৃক্ত করার আশ্বাসও দিয়েছেন।

হামিদ সাহেব বছরে দুটি ঈদ উৎসবে ছুটে আসেন গ্রামের মানুষের টানে। দু’হাতে বিলাতে থাকেন জামা-কাপড়, খাবার সামগ্রী এমনকি নগদ টাকা। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলি হামিদ সাহেবকে পেয়ে যেন স্বর্গীয় চাঁদকে নিজেদের  মাঝে পেয়েছে। তারাও নিজেদের সরল হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাঁকে গ্রহণ করেছে। একসময় সমাজের কিছু স্বচ্ছল সমাজপতিরাও হামিদ সাহেবের কাছে ভিড়তে লাগল। কেউ ভাবল আমরাও কিছু সুযোগ গ্রহণ করিনা কেন। আবার কেউ ভাবে এমন উদার দানশীল ব্যক্তিকে আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি বানাতে পারলে সমাজ উন্নয়নের মুখ দেখত। পিছিয়ে পড়া এ এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিদ্যুৎ সহ সকল প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়ায় ঘুরে দাঁড়াত এলকা।
লোকজনের এসব প্রস্তাবিত কানাঘুষো হামিদ সাহেবের কানে পৌঁছে গেল। তাই একটি ঈদে দরিদ্রদের মাঝে অর্থ-সামগ্রী বিতরণের পূর্বে মাষ্টার মিজান খানকে ডাকলেন এবং এসব ব্যাপারে শেয়ার করলেন। অবশ্য এর আগে কোনো  উৎসব ধরে মাষ্টার সাবকে এভাবে ডাকেননি এবং মাষ্টার সাবও এসব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। এতদিন অবশ্য দূর থেকে তার দান করার কথা শুনেছেন, তবে এবার কাছে থেকে নিজ চোখে দেখলেন এলাহীকাণ্ড। জামা-কাপড় ও খাদ্যসামগ্রীর সাথে সুবিধাভোগীরা হামিদ সাহেবকে পটকিয়ে বান্ডেল বান্ডেল কড়কড়া নোট হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে অবশ্য হামিদ সাহেব আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন। কারণ এযাবৎ শহরের যে মানুষগুলোকে খাইয়েছেন দিয়েছেন তারা একবার নিয়ে গেলে ঘুরে এসে সালামটুকু পর্যন্ত দেয় না। আর নিজ এলাকার এসব সহজ-সরল মানুষগুলো বছরের এক ঈদে কিছু পেলে আরেক ঈদ পর্যন্ত গুন-গান গাইতে থাকে। পথে পথে সালাম ঠুকে, জি স্যার-জি স্যার করতে থাকে। এ কি কম পাওয়া! আর আল্লাহ তো তাঁকে অনেক দিয়েছে। ঠিকমত হিসাবে করে যাকাত-ফেতরা দিলেও এলাকার মানুষগুলো অন্তত বছরে দুটি উৎসব ভালোভাবে পালন করতে পারে।
কিন্তু কিছু চতুর লোকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারটি মাষ্টার সাবের কাছে ভালো লাগেনি। তাই তিনি মনে করেন এতে করে গরিবদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছেনা। পরিবার নিয়ে চলার মত আয়-উপার্জনের পথ হচ্ছেনা। তাই এবারের উপকরণ বিলি বন্টনের পর মাষ্টার সাব হামিদ সাহেবের সাথে কিছু পরামর্শ শেয়ার করলেন। অবশ্য এরই মাঝে এলাকাবাসী তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। এতে তিনি জনগণের প্রতি আবেগ-আপ্লুত।
মাষ্টার সাব বয়সে চেয়ারম্যান হামিদ সাহেবের অনেক ছোট হওয়ায় চেয়ারম্যান দাদা বলেই ডাকেন। চেয়ারম্যান সাহেবও মাষ্টারকে ভালোবাসেন ও স্নেহভরে ডেকে থাকেন।
মাষ্টারঃ চেয়ারম্যান দাদা, সুযোগ দিলে আপনার সাথে কিছু বিষয় পরামর্শ করতাম।
চেয়ারম্যানঃ কি বল মাষ্টার, তুমি যেকোনো বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলাপ করতে পার। তো বল কি তোমার আসল কথা?
মাষ্টারঃ বলতে চাচ্ছিলাম যেভাবে মানুষকে দিচ্ছেন, খাওয়াচ্ছেন সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমার পরামর্শ হল শুধু উৎসব ধরে এদের যতই খাওয়ান-পরান এতে এদের সার্বিক ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটছে না।
চেয়ারম্যানঃ তাহলে তুমি বল কিভাবে করলে ভালো হয়।
মাষ্টারঃ এই ধরুন বিভিন্ন এলাকা থেকে হতদরিদ্র লোক বাছাই করে তাদের মধ্যে দৈনিক উপার্জন করার মত কিছু যানবাহন যেমনঃ রিক্সা, ভ্যান জনপ্রতি একটা না হলেও প্রতি দুইজনে একটা করে কিনে দিলে এর মাধ্যমে তারা দৈনিক উপার্জনে সংসার চালিয়ে বাড়তি কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবে। আবার দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি, ভর্তি ও বই-পুস্তকের সুযোগ করে দিলে শিক্ষার হার বাড়বে।অপরাধ কমবে।
চেয়ারম্যানঃ মাষ্টার তোমার পরামর্শ অত্যান্ত সুদূরপ্রসারী। এর আগে এভাবে কেউতো বলেনি! আমি তোমার প্রস্তাবে একমত। এবং তুমি পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকলে আমি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। এতে চেয়ারম্যান হওয়াটা মূখ্য বিষয় নয়। তোমাদের মত শিক্ষিত ভালো মনের মানুষদের নিয়ে সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে চাই।
মাষ্টারঃ আসলে আমি বা আমরা যারা মাষ্টারি করি; মানুষ গড়ার কারিগর বললেও এ স্বল্প আয়ের মানুষদের কেউ সামাজিক কাজে, সালিশ-দরবারে ডাকে না। সে যাই হোক, আপনি ডাকলে ভালো কাজে শরিক হবো।
চেয়ারম্যানঃ আমারও কিছু পরিকল্পনা আছে। বাস্তবায়নও করতে চাই। যা তোমার সাথেও আলাপ করেছি আগে। এ পশ্চাৎপদ জেলায় শিশুদের মানশিক বিকাশে কোনো পার্ক-উদ্যান নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বর্তমান সরকারের বড় উদ্যোগ পদ্মাসেতু নির্মাণ। সেতু নির্মিত হলে এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত টাটকা শাক-সবজী সহ নিজেদের শ্রমও  রাজধানীতে নিয়ে গিয়ে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারবে। তাই আমি একটি এ্যগ্রোফার্ম করার পরিকল্পনা করতেছি যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে করে ঢাকামুখী লোকজন মাটির টানে গ্রামে এসে কাজ করে সাবলম্বী হতে পারবে।
তবে সার কথা তোমার পরামর্শ কাজে লাগিয়ে এবার ঈদের আগেই দরিদ্র পরিবারের মাঝে কিছু রিক্সা-ভ্যান কিনে দিয়ে যাবো। যাতে ঈদে বেড়াতে এসে দেখি তারা উপার্জনের নেমে পড়েছে। এমনকি এলাকার মধ্যে আমি দামী গাড়ীতে না ঘুরে তাদের রিক্সা-ভ্যানে চড়বো এবং ভাড়া মিটিয়ে দেব। এতে তারাও খুশি হবে।
আর শোন মাষ্টার, সরকার একটি বাড়ি একটি খামার ঘোষণা করেছে। এটা বাস্তবায়নে এলাকায় শিক্ষিত মেয়ে ও নারীদের নিয়ে তোমাকে কাজ করতে হবে। আগে দেখেছি মা-চাচীরা বাড়ির আঙিনায়, আশপাশে তরকারী গাছ লাগিয়ে নিজেদের  চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করেছে। আজ এসব সবজি কিনে খেতে হয়। এ অভ্যাস বদলাতে হবে।
মাষ্টারঃ জি, চেয়ারম্যান দাদা, উঠোন বৈঠক ও গ্রাম্য সভায় এসবসহ যৌতুকপ্রথা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গ্রামবাসীকে বুঝাবো এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে উৎকোচ-উপঢৌকন না নিয়ে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার পরামর্শও দিব।

লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও কবি

Sunday, May 29, 2016

চঞ্চলা মেঘেরা | আলমগীর সরকার লিটন

আকাশের কান্না দেখে দেখে ধরণী সাজে কাদামাখা জল দুষ্টমীতে মাতে বাতাসের দল মা বলে, ওরে বাবা ঘরে চল ।। নেমেছে মাঠে সন্ধ্যার ঘোর ঐখানে ... thumbnail 1 summary

আকাশের কান্না দেখে দেখে
ধরণী সাজে কাদামাখা জল
দুষ্টমীতে মাতে বাতাসের দল
মা বলে, ওরে বাবা ঘরে চল ।।

নেমেছে মাঠে সন্ধ্যার ঘোর
ঐখানে টেবিলের উপর
পিতলের নেম্পু খানা
পিদিম পিদিম জ্বলে-
পড়তে বসার কথা বলে
রান্না ঘরে রাধে মা সরিষার
সাথে ইলিশ মাছের ঝোল ।।

এখন স্মৃতির সাগরে ঢেউ
মনের আবেগে বাঁধেনা কেউ
সুখের দিনগুলো হয়েছে যেন
মা-ছেলের দুষ্ট খেলার ছল
কোথায়রে তোর উজ্জ্বল পুঁথি বল
ভয়ঙ্কর মেঘেরা আজ বড় চঞ্চল ।।

শ্যামলী, ঢাকা