Saturday, June 18, 2016

ফারুক নওয়াজ-এর কবিতা | বইপ্রিয় বউ

বন্ধু আমার আমলা কিন্তু হাস্যরসিক স্বভাবে... লিখেটিখে বহু বই ছাপালেন উচ্চপদের প্রভাবে। হাসান প্রচুর যেখানেই যান পান খেয়ে খেয়ে ওষ্ঠ রাঙান যদি... thumbnail 1 summary
বন্ধু আমার আমলা কিন্তু হাস্যরসিক স্বভাবে...
লিখেটিখে বহু বই ছাপালেন উচ্চপদের প্রভাবে।
হাসান প্রচুর যেখানেই যান
পান খেয়ে খেয়ে ওষ্ঠ রাঙান
যদি বলি ‘বউ বিগড়ে যাবেন পান খেতে নেই ওভাবে’-
‘বউ করে পান, আমি খাই পান’... বলেন কথার জবাবে।

সেদিন বিকেলে আড্ডা জমিয়ে
কথা হচ্ছিল বইপড়া নিয়ে...
তিনি বললেন, ‘আমার বউ-ও বই ভালোবাসে অতিশয়’-
সবাই বলল, ‘বইপ্রিয় বউ না হলে কবির ক্ষতি হয়।’
হাহা করে হেসে বললেন তিনি;
‘ক্ষতি তো আমার হয় প্রতিদিনই...
বউ যে আমার... বই ভালোবাসে... তবে সেটা হলো চেকবই!’
তার কথা শুনে ভাবলাম আমি এই নিয়ে ছড়া লেখবই!

হুমায়ুন আজাদ-এর কবিতা | সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ;— চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্য... thumbnail 1 summary

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ;— চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা— সমস্ত দলিল—
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ নির্জন প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুল
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চ’লে যাবে সেই সব উপকথা : সৌন্দর্য-প্রতিভা—
মেধা;— এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের ঠোঁট
গদ্যপদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্কস-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মতো আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক—
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

Sunday, June 12, 2016

বিশু পাগল | সুজয় চক্রবর্তী

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে এ... thumbnail 1 summary
সুজয় চক্রবর্তী | ছায়াপথ

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে একে সবাই 'না' করে দিচ্ছে ঘটক মারফৎ; তখন বাবা ওকে বললো, " তোর মতো মেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে.....।"

মরলো। নন্দিতা শেষ পর্যন্ত মরলোই। গায়ে আগুন লাগিয়ে।
পাড়ার বিশু পাগলের কাছে  নন্দিতা খুব প্রিয় ছিলো। রাস্তায় দেখা হলে খেয়েছে কি না জানতে চাইতো। না খেয়ে থাকলে পাড়ার মুদির দোকান থেকে এটা-সেটা কিনে দিতো নন্দিতা। কখনও বা বিশুর হাতে পাঁচ-দশ টাকা গুঁজেও দিতো।
বিমলের চায়ের দোকানে নন্দিতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। সন্ধেবেলা। বিশু দূরে দাঁড়িয়ে চুপ করে সব শুনছিলো। এর জন্য নাকি সমাজই দায়ী।

'সমাজ' কী, বিশুর কাছে অতোটা পরিস্কার না। কিছুটা সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পিছনের দিকে ঘুরে গেলো বিশু। তারপর ডান হাত তুলে কাউকে ডাকার ভঙ্গিতে বলে উঠলো, "এই হারামির বাচ্চা সমাজ! আয়, তোরেও গায়ে কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই...।"