Monday, June 27, 2016

অণুগল্প | কাঠকয়লার ছবি | শুভ্রদীপ চৌধুরী

প্রতিদিন সকালে হোটেলের ফেলে দেয়া ছাই থেকে, পোড়া কাঠ কয়লার টুকরো এনে বন্ধ গোডাউনটার বারান্দায় ছবি আঁকে এক পাগল। আঁকে, ট্রেনের ধোঁয়ার ভেত... thumbnail 1 summary

প্রতিদিন সকালে হোটেলের ফেলে দেয়া ছাই থেকে, পোড়া কাঠ কয়লার টুকরো এনে বন্ধ গোডাউনটার বারান্দায় ছবি আঁকে এক পাগল।
আঁকে, ট্রেনের ধোঁয়ার ভেতরে আটকে পড়া সূর্য আর গাছহীন টবের উপরে একঝাঁক প্রজাপতি। প্রতিদিন একই ছবি!

দুপুর হতেই সেই বারান্দায় এসে পড়ে হরেক মাল দশ টাকার দোকানি। সে ট্রেনের ধোঁয়ার  উপরে, সূর্যের উপরে তার দোকান সাজায়। বিকেল ফুরিয়ে এলে সে তার দোকান গুটিয়ে চলে যায়।
এর পর সেখানে আসে চাকাওয়ালা চপের দোকান গাড়ি। তার গায়ে লেখা চপ, চাউমিন,  ঘুগনি। ট্রেনের ধোঁয়ার উপরে, প্রজাপতির উপরে এবার বসে জলের বালতি, এঁটো প্লেট-চামুচের স্তুপ। চপের দোকানি যাবার আগে বারান্দাটা ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয় প্রতিদিন রাতে।

এসব পাগলটা দূর থেকে দ্যাখে। খুশি হয়। যাক, আগামীকাল তাকে নিজ হাতে নিজের আঁকা মুছতে হবে না।

আবার সকাল হয়।

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

Sunday, June 19, 2016

মুহম্মদ নূরুল হুদার ছড়া | বাবা

যেদিক যাবা, যাবা মনে রাখবা বাবা আমার বাবা আসল বাবা মুখজোড়া যার কাবা। কাবার দিকে মুখ ফেরালে বাবা পাওয়া যায়, বাবার দিকে মুখ ফেরালে কাবা পাওয়... thumbnail 1 summary
মুহম্মদ নূরুল হুদাযেদিক যাবা, যাবা
মনে রাখবা বাবা
আমার বাবা আসল বাবা
মুখজোড়া যার কাবা।

কাবার দিকে মুখ ফেরালে
বাবা পাওয়া যায়,
বাবার দিকে মুখ ফেরালে
কাবা পাওয়া যায়।

যেদিক যাবা, যাবা
মনে রাখবা বাবা
দিনদুনিয়ায় আল্লাহ্-রসুল
তারপরেই বাবা।

Saturday, June 18, 2016

ফারুক নওয়াজ-এর কবিতা | বইপ্রিয় বউ

বন্ধু আমার আমলা কিন্তু হাস্যরসিক স্বভাবে... লিখেটিখে বহু বই ছাপালেন উচ্চপদের প্রভাবে। হাসান প্রচুর যেখানেই যান পান খেয়ে খেয়ে ওষ্ঠ রাঙান যদি... thumbnail 1 summary
বন্ধু আমার আমলা কিন্তু হাস্যরসিক স্বভাবে...
লিখেটিখে বহু বই ছাপালেন উচ্চপদের প্রভাবে।
হাসান প্রচুর যেখানেই যান
পান খেয়ে খেয়ে ওষ্ঠ রাঙান
যদি বলি ‘বউ বিগড়ে যাবেন পান খেতে নেই ওভাবে’-
‘বউ করে পান, আমি খাই পান’... বলেন কথার জবাবে।

সেদিন বিকেলে আড্ডা জমিয়ে
কথা হচ্ছিল বইপড়া নিয়ে...
তিনি বললেন, ‘আমার বউ-ও বই ভালোবাসে অতিশয়’-
সবাই বলল, ‘বইপ্রিয় বউ না হলে কবির ক্ষতি হয়।’
হাহা করে হেসে বললেন তিনি;
‘ক্ষতি তো আমার হয় প্রতিদিনই...
বউ যে আমার... বই ভালোবাসে... তবে সেটা হলো চেকবই!’
তার কথা শুনে ভাবলাম আমি এই নিয়ে ছড়া লেখবই!

হুমায়ুন আজাদ-এর কবিতা | সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক সব সংঘ-পরিষদ;— চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্য... thumbnail 1 summary

আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ;— চলে যাবে, অত্যন্ত উল্লাসে
চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা— সমস্ত দলিল—
নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে, যে-রকম রাষ্ট্র
আর রাষ্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ’লে গেছে নষ্টদের
অধিকারে। চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ নির্জন প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
কড়কড়ে রৌদ্র আর গোলগাল পূর্ণিমার চাঁদ
নদীরে পাগল করা ভাটিয়ালি খড়ের গম্বুজ
শ্রাবণের সব বৃষ্টি নষ্টদের অধিকারে যাবে।
রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না আর রবিশংকরের
সমস্ত আলাপ হৃদয়স্পন্দন গাথা ঠোঁটের আঙুল
ঘাইহরিণীর মাংসের চিৎকার মাঠের রাখাল
কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে।
চ’লে যাবে সেই সব উপকথা : সৌন্দর্য-প্রতিভা—
মেধা;— এমনকি উন্মাদ ও নির্বোধদের প্রিয় অমরতা
নির্বাধ আর উন্মাদদের ভয়ানক কষ্ট দিয়ে
অত্যন্ত উল্লাসভরে নষ্টদের অধিকারে যাবে।
আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের ঠোঁট
গদ্যপদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্কস-লেনিন,
আর বাঙলার বনের মতো আমার শ্যামল কন্যা-
রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক—
আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

Sunday, June 12, 2016

বিশু পাগল | সুজয় চক্রবর্তী

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে এ... thumbnail 1 summary
সুজয় চক্রবর্তী | ছায়াপথ

নন্দিতা প্রাইমারি স্কুলের টিচার। গায়ের রং কালো বলে ছোট থেকেই অনেক অপমান সহ্য করে এসেছে। শেষে যখন বিয়ের জন্য ছেলে দেখা শুরু হল, একে একে সবাই 'না' করে দিচ্ছে ঘটক মারফৎ; তখন বাবা ওকে বললো, " তোর মতো মেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে.....।"

মরলো। নন্দিতা শেষ পর্যন্ত মরলোই। গায়ে আগুন লাগিয়ে।
পাড়ার বিশু পাগলের কাছে  নন্দিতা খুব প্রিয় ছিলো। রাস্তায় দেখা হলে খেয়েছে কি না জানতে চাইতো। না খেয়ে থাকলে পাড়ার মুদির দোকান থেকে এটা-সেটা কিনে দিতো নন্দিতা। কখনও বা বিশুর হাতে পাঁচ-দশ টাকা গুঁজেও দিতো।
বিমলের চায়ের দোকানে নন্দিতাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। সন্ধেবেলা। বিশু দূরে দাঁড়িয়ে চুপ করে সব শুনছিলো। এর জন্য নাকি সমাজই দায়ী।

'সমাজ' কী, বিশুর কাছে অতোটা পরিস্কার না। কিছুটা সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পিছনের দিকে ঘুরে গেলো বিশু। তারপর ডান হাত তুলে কাউকে ডাকার ভঙ্গিতে বলে উঠলো, "এই হারামির বাচ্চা সমাজ! আয়, তোরেও গায়ে কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দিই...।"

Saturday, June 11, 2016

ফারুক নওয়াজের কবিতা | কবিতা কি সেই অদেখা তারাটি

ছোট্ট একটু ভালবাসা

মোহাম্মদ সামির  আচ্ছা এমন করে ভালবাসা যায় না? ধরেন অফিসে বসে আছেন হুট করে পাগলিটাকে একটা ফোন দিয়ে বললেন, এই শুনছো আমার অফিসের ফাইলটা ... thumbnail 1 summary

মোহাম্মদ সামির 

আচ্ছা এমন করে ভালবাসা যায় না?
ধরেন অফিসে বসে আছেন হুট করে পাগলিটাকে একটা ফোন দিয়ে বললেন, এই শুনছো আমার অফিসের ফাইলটা বাসায় ফেলে এসেছি ড্রয়ারটা একটু চেক করে দেখবা?
তারপর আদরের বউটা তাড়াহুড়া করে ড্রয়ার খুলে দেখলো একটা নীল রঙের খাম পড়ে আছে l
খামের ভিতর চিরকুটে লেখা "বড্ড ভালবাসি তোমাকে"।

কিংবা হটাৎ একদিন অসময়ে ঘরে ফিরে এলেন। খুব তাড়াহুড়া করে বললেন, জরুরি একটা জিনিস ফেলে গেছি।
এরপর পাগলিটার কপালে একটা চুমু খেয়ে বললেন, পেয়ে গেছি এখন যাই...

বিশ্বাস করেন সুখে পাগলীটার দম আটকে আসবে।
পেছন না ফিরেও বুঝতে পারবেন পাগলীটার গালে ভালবাসার অশ্রু চিক চিক করছে।

ভালবাসার মানুষকে ধরে রাখতে হীরার নেকলেস লাগে না, লাগে একটু যত্ন! ''একটু আন্তরিকতা!''

Thursday, June 9, 2016

শিব | সুজয় চক্রবর্তী

কষে লাথিটা মারলাম ওকে। ইচ্ছে করেই। লাথিটা না মারলে ও পড়তো না। গোলের খুব কাছে চলে এসেছিল। আরেকটু হলেই গোলটা হয়ে যেতো! লাথিটা খেয়ে ও হুমড়ি খ... thumbnail 1 summary
কষে লাথিটা মারলাম ওকে। ইচ্ছে করেই। লাথিটা না মারলে ও পড়তো না। গোলের খুব কাছে চলে এসেছিল। আরেকটু হলেই গোলটা হয়ে যেতো!
লাথিটা খেয়ে ও হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। ঠোঁট কেটে গিয়েছিল। রাগে ফুঁসছিল। কিন্তু রেফারি বিশুদা আমাকে সাবধান করে দিয়ে ফাউল দেওয়ায় ও চুপ মেরে গিয়েছিল।

গাজনের মাঠে ওকেই দেখলাম 'শিব' সেজে ঘুরে বেড়াতে। হাতে ছোট একটা ত্রিশূল। ভক্তরা ফুল-বেলপাতা বট গাছের নিচে রেখে দণ্ডায়মান 'শিব'কেও প্রণাম করে ফিরে যাচ্ছে একে একে।

দেখি আমাদের দলের নানুও গেল। ওর দেখাদেখি আমিও।
ফিরে আসতেই বল্টু ফিচেল হাসি দিয়ে বললো," আরে! গোবরাটাকে আবার তুইও প্রণাম করলি!"
- করবো না কেনো, ও তো এখন শিব।

পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

Monday, June 6, 2016

নির্মলেন্দু গুণ-এর কবিতা | ব্যথার দান

তোমার কথা মনে পড়লো, নাকি আমার মনই পড়লো তোমার কথায়? কোনটা যে ঠিক? কোনটা যে ঠিক? কবির মতো উদাস হয়ে ভাবি, ব্যথার মাঝেই আছে কথার চাবি।... thumbnail 1 summary



তোমার কথা মনে পড়লো,
নাকি আমার মনই পড়লো তোমার কথায়?
কোনটা যে ঠিক? কোনটা যে ঠিক?
কবির মতো উদাস হয়ে ভাবি,
ব্যথার মাঝেই আছে কথার চাবি।

Saturday, June 4, 2016

স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬ পেলেন গল্পকার মেহেদী সম্রাট

ছোটগল্প ও অণুগল্পে গতিশীল চিন্তা আর স্থির লক্ষ্যের জন্য তারুণ্যের উৎসাহমূলক এ্যাওয়ার্ড "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬" ... thumbnail 1 summary

মেহেদী সম্রাট - স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬

ছোটগল্প ও অণুগল্পে গতিশীল চিন্তা আর স্থির লক্ষ্যের জন্য তারুণ্যের উৎসাহমূলক এ্যাওয়ার্ড "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬" পেয়েছেন তরুণ গল্পকার মেহেদী সম্রাট।


নারায়ণগঞ্জের গিয়াসউদ্দিন মডেল কলেজের অবিভাবক মিলনায়তনে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত মধুমাসের সাহিত্য আড্ডা ও “স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

‘স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সংঘ’র আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আনন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছড়াকার স,ম সামসুল আলম, ছড়াকার মাহমুদউল্লাহ্, সিরাজুল ফরিদ, ছড়াসম্রাট জগলুল হায়দার, সিদ্দিকীয়া পাবলিকেসন্স এর প্রকাশক ছড়াকার মালেক মাহমুদ, তুষারধারা লিটলম্যাগের সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মামুন, বাবুই ম্যাগাজিনের সম্পাদক কাদের বাবু, চমৎকার লিটলম্যাগের সম্পাদক মোজাম্মেল প্রধান, ছড়াময় লিটলম্যাগের সম্পাদক আহমাদ স্বাধীন ও অনেক গুণী সাহিত্যিকবৃন্দ।

মেহেদী সম্রাট তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “প্রাণের তাগিদে গল্প লিখি আমি। চেষ্টা করি গল্পের মাধ্যমে সামাজিক অসঙ্গতিগুলোকে তুলে ধরতে। চেষ্টা করি গল্পের মাধ্যমে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, হানাহানি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। হৃদয়ে মিশে আছে যে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম সেসবও গল্পের মধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর আমি। বাস্তব জীবনবোধ ও রোমান্টিকতা নিয়ে লিখতেও চেষ্টা করি। কিন্তু তবুও এখনো নিজেকে পুরষ্কার পাবার যোগ্য মনে করি না। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা আমাকে "স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য সম্মাননা -২০১৬" এর জন্য মনোনীত করেছেন। এতে করে সর্বোপরি সাহিত্যের প্রতি আমার দায় আরো বেড়ে গেলো। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য, পুরষ্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হলো, আমি যেন বাংলা সাহিত্যের জন্য সে দায়িত্বটুকু সফল ভাবে পালন করতে পারি।"

মেহেদী সম্রাট বেশ কয়েক বছর যাবত অণুগল্প ও ছোটগল্প নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করার পাশাপাশি অবিরত লিখে চলেছেন। বিশেষ করে অণুগল্পকে বিশ্ব সাহিত্যের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, লিটল ম্যাগ, অনলাইন পত্রিকা ছাড়াও ভারতের পত্র-পত্রিকায়ও তার গল্প প্রকাশিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রবীণ ও তরুণ দুই ক্যাটাগরিতে ১০ জনকে এ বছর স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান করা হয়। পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন--
(প্রবীণ)- সিরাজুল ফরিদ, স ম শামসুল আলম, মতিউর রহমান মনির, সায়রা মুন্নি, নজরুল ইসলাম শান্তু, জাহাঙ্গীর ডালিম, আনিছুর রহমান হৃদয়, মোঃ শহিদুল ইসলাম মুসাফির,
(তরুণ)- মেহেদী সম্রাট এবং আপন অপু।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অনুগল্প | কান্না | মোহাম্মদ সামির

মেয়েটার হঠাৎ কিছু টাকা দরকার হওয়ায়  সে তার বিএফকে ফোন করেছে-- ছেলে- হ্যালো। জানু কী করছো? মেয়ে- তেমন কিছু না। ছেলে- কেন? মেয়ে- এমনি... thumbnail 1 summary
কান্না-Girls Crying - মেয়ের কান্না - দুঃখ - Girl Friend

মেয়েটার হঠাৎ কিছু টাকা দরকার হওয়ায় সে তার বিএফকে ফোন করেছে--

ছেলে- হ্যালো। জানু কী করছো?
মেয়ে- তেমন কিছু না।
ছেলে- কেন?
মেয়ে- এমনি তেমন কিছু না।
ছেলে- সত্যি করে বলো, তোমার কণ্ঠ এমন কেন?
মেয়ে- কই, কেমন?
ছেলে- অন্য রকম লাগছে, কেন ফোন করেছো, সত্যি করে বলো।
মেয়ে- এমনি করেছি ফোন, কেন তোমাকে যখন ইচ্ছা ফোন করতে পারবো না?
ছেলে- না সেটা না। কথা হলো তোমার কলেজ টাইমে তুমি কখনও ফোন করো না, তাই বললাম।
মেয়ে- না মানে আসলে হয়েছে কী, আমার কিছু টাকা লাগবে। আজকে আমাদের কলেজে ফর্ম ফিলাপ করার লাস্ট ডেট তো। আর আমার এক বান্ধবি ভুল করে টাকা ওর টেবিলে ফেলে এসেছে, আর ওর বাড়িতে এমন কেউ নেই যে টাকাটা দিয়ে যাবে। তোমার তো মোবাইল ব্যাংকিং আছে সেখান থেকে যদি টাকাটা দিতে...। পরে তোমাকে দিয়ে দিতাম।
ছেলে- থাপ্পড় চেনো, ফাজিল 
মেয়ে?

কথাটা শুনে মেয়েটার চোখে জল এসে গেল। অভিমান এবং অপমানের জল । আজকে ৪ বছর তাদের সম্পর্ক।কখনো কিছু চায়নি মেয়েটা ছেলেটার কাছে। আজকে খুব সমস্যায় পড়েছে বলেই চেয়েছে, তাও বান্ধবীর জন্য।অনেক বড় গলা করে বান্ধবীদের সাথে কথা বলতো তাকে নিয়ে। ছি ছি আজকে কী করে মুখ দেখাবে বান্ধবির কাছে?
কোন রকমে কান্না আটকে মেয়েটা আবার কথা বলছে-
সরি আমার ভুল হয়ে গেছে।
অবশ্যই ভুল হয়েছে। হাতের কাছে পেলে দুইটা থাপ্পড় দিতাম।

(কান্না কণ্ঠে) আমি মাফ চাইছি, ভুল করে ফেলেছি।
পাগলী তোমার উপরে আমার এই কারণেই রাগ হয়। তোমার টাকা লাগবে, ভালো কথা। সেটা তুমি আমাকে এই ভাবে কেন বললে? আমি কি এত কিছু জানতে চেয়েছি? তুমি যে কোন একটা এটিএম বুথের কাছে গিয়ে বলবে এই শুনো, আমি এই বুথে আছি তুমি তোমার মোবাইল ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড মোবাইলে মেসেজ করো। কতো টাকা লাগবে বা কেন লাগবে এইসব কেন বলতে গেলে? তাই আমি রাগ করছি...।
তোমাকে পরে পেলে পাঁচটা থাপ্পড় দেবো। আমার একাউন্টের সব টাকাইতো তোমার টাকা। পাগলী, নিজের একাউন্টের টাকা তুলতে আবার বলতে হয়? এইবার একটু হাসো...


কান্না-Girls Crying - মেয়ের কান্না - দুঃখ - Girl Friend

মেয়েটা এখনও হাসার বদলে কাঁদছে। তবে সেটা খুশির কান্না, ভালবাসার বিশ্বাসের কান্না। ছেলেটা কতোটা বিশ্বাস করে আমাকে...।
সত্যি মেয়েটা নিজেকে পৃথিবীর ভাগ্যবান লোককেদের মধ্যে একজন মনে করছে নিজেকে। জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো ভালবাসার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা।

Friday, June 3, 2016

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর কবিতা | অংশ

দুঃখ সে নয় শুধুই আমার একার, তোমারও কিছু অংশ আছে তাতে। বিনিড়ঘন ব্যথার পাশাপাশি তুমিও মিশে আছো আমার সাথে। দুঃখ সে-ও নেশার মতো লাগে য... thumbnail 1 summary
দুঃখ কবিতা Sad Poem নির্মলেন্দু গুণ

দুঃখ সে নয় শুধুই আমার একার,
তোমারও কিছু অংশ আছে তাতে।
বিনিড়ঘন ব্যথার পাশাপাশি
তুমিও মিশে আছো আমার সাথে।

দুঃখ সে-ও নেশার মতো লাগে
যদি ওটা তোমার দেয়া হয়,
অন্য যতো দুখের কথা জানি
তার কোনোটাই তোমার মতো নয়।

তুমি আমার ভিতর বাড়ি চেনো
তাই সহজেই প্রবেশ করো মূলে,
যারা আসে সুখের স্বপ্ন নিয়ে
হারায় তারা পথের হুলস্থুলে।

ফারুক নওয়াজ-এর কবিতা | যখন তুমি পদ্য লিখবে

যখন তুমি পদ্য লিখবে, ছন্দোবদ্ধ হতেই হবে... অন্ত্যমিলের দক্ষতাটা ব্যাকরণের মতেই হবে। অন্ত্যমিলটা ছন্দ না ঠিক; ছন্দ হলো চলার গতি- কিন্তু... thumbnail 1 summary
যখন তুমি পদ্য লিখবে, ছন্দোবদ্ধ হতেই হবে...
অন্ত্যমিলের দক্ষতাটা ব্যাকরণের মতেই হবে।
অন্ত্যমিলটা ছন্দ না ঠিক; ছন্দ হলো চলার গতি-
কিন্তু মিলে ভেজাল দিলে সৃষ্টিটারই করলে ক্ষতি।
বৃষ্টি নিয়ে লিখছ তুমি মনের আবেগ ঢেলে সবি...
‘ঢেলে’র সঙ্গে ‘বিলে’ দিলে ভাববে সবাই উটকো কবি।
‘বাড়ি’র সঙ্গে ‘গাড়ি’, ‘শাড়ি’,-- পারো এসব শব্দ দিতে;
তা না দিয়ে ‘গড়াগড়ি’ দিলেই সেটা লাগবে তিতে।
ছন্দ বোঝো? নেই প্রয়োজন ছন্দ-জ্ঞানের কেতাব পড়ে;
লেখার পরে পড়বে সেটা আস্তে আস্তে শুদ্ধ করে।
পড়লে যদি সেই লেখাটা ওষ্ঠে-কানে বেঢপ ঠেকে...
ভাববে সঠিক হয়নি লেখা; দৃষ্টি বোলাও শুরুর থেকে।
পড়ার সময় বাঁধলে ঠোঁটে, কর্ণে যদি খটকা লাগে-
আচ্ছা করে ঝালাই করো, পোস্ট করো না পড়ার আগে।
ও বুঝেছি ভালোই পারো, ছন্দে তুমি দক্ষ ভারী...
এবার দেখো বানানগুলো; সঙ্গে রাখো ডিকশনারি।
বানান ভুলের কারণ হলে পাঠক তোমায় চিমটি দেবে;
লিখতে হবে ছন্দ, বানান, মাত্রা বুঝে একটু ভেবে।
ভাবতে হবে নতুন কিছু... যা ভাবেনি অন্যে আগে...
তোমার লেখা পড়েই যেন সবার মনে পুলক জাগে।
তোমার মাঝে শক্তি আছে পারবে তুমি লিখতে সঠিক-
ভুল লেখাটা পোস্ট করো না যতোই লোকে হাততালি দিক...! 

Wednesday, June 1, 2016

শাহানা সিরাজীর কবিতা | প্রাচীর

এখানে প্রাচীর থাকতে পারে না চেতনায় চেতনায় গল গল অতঃপর শান্ত অতঃপর পহরার সব চিহ্ন হাঁসের ডানার শেষ জলবিন্দুর মত ঝরে যায় স্পর্শের গভীরে... thumbnail 1 summary

এখানে প্রাচীর থাকতে পারে না
চেতনায় চেতনায় গল গল অতঃপর শান্ত
অতঃপর পহরার সব চিহ্ন হাঁসের ডানার শেষ জলবিন্দুর মত ঝরে যায়
স্পর্শের গভীরে অপত্য চুম অকালের সকালকে হাত ধরে দুপুরে পৌছায়
জাগালে কেন
জাগিয়ে তোল
বিশুদ্ধ স্নানের ঘ্রাণ মাতাল সময়কে অস্থির করে
কাছে এসো
আরো কাছে
ভোর এসে জানালার পর্দা সরায়...

প্রিয়ার পরশে | দীন মুহাম্মদ

সারা দিনরাত কথা বলেও কখনো কখনো হয় না কিছুই বলা।  শুধু প্রিয়ার চোখে চোখ রেখেও হয়ে যেতে পারে অন্তহীন কথা বলা। সারাদিন ধরে হেঁটে হেঁট... thumbnail 1 summary


সারা দিনরাত কথা বলেও
কখনো কখনো হয় না কিছুই বলা। 
শুধু প্রিয়ার চোখে চোখ রেখেও
হয়ে যেতে পারে অন্তহীন কথা বলা।
সারাদিন ধরে হেঁটে হেঁটেও
কখনো কখনো হয় না পথ চলা।
শুধু প্রিয়ার সাথে দু পা হেঁটেই
হয়ে যেতে পারে অন্তহীন পথ চলা।
অনেক পেয়েও কারো কারো বুকে
রয়ে যেতে পারে কিছু না পাওয়ার ক্ষুধা ।
যদি বুক ভরা শুধু ভালোবাসা পায়
তা-ই হতে পারে তার জীবনী-সুধা।
শত বছরের দীর্ঘ জীবনও
কখনো হতে পারে মুল্যহীন।
শুধু প্রিয়ার সাথে একরাত জাগা
হয়ে যেতে পারে সুখনিশি অন্থহীন।

শাহানা সিরাজীর কবিতা | দোদুল

অভিযোগ সব দায় বহন করে না রাতের গভীরতাও মাপা যায় না কালের চক্রে বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী রূপ-রূপক এক নয় বলেই ভিন্ন আয়োজন সরল রেখার শুরু ... thumbnail 1 summary


অভিযোগ সব দায় বহন করে না
রাতের গভীরতাও মাপা যায় না
কালের চক্রে বিবর্তন অবশ্যম্ভাবী
রূপ-রূপক এক নয় বলেই ভিন্ন আয়োজন

সরল রেখার শুরু আছে শেষ কোথায়?
মনাড়াল নিরন্তর অশ্রুপাতে মলিন
অথচ প্রদীপ এখনো জ্বলছে
খতের বিবরণ লেখা হয় না কোন খাতায়

যখন ঝড় আসে ভারাক্রান্ত দেয়াল স্যাঁতস্যাঁতে
অাঁধারের গোপন কথাটি বুঝতে গিয়ে আবার ঝরে
কেউ হাততালি দেয় কেউ মুখ ফেরায়
                                   কেউ স্বপ্ন হাতে
নরম মাটিতে দোদুল পা ফেলে বিস্মিত হই

কতবার মরলে তাকে মৃত্যু বলা যায়?
পথ আর সময় কে কার হয়?

Monday, May 30, 2016

কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা | কারার ঐ লৌহ-কপাট | ভাঙ্গার গান

কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল, কর্ রে লোপাট,                            রক্ত-জমাট শিকল পূজার পাষাণ-বেদী। ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্র... thumbnail 1 summary

কারার ঐ লৌহ কপাট,
ভেঙ্গে ফেল, কর্ রে লোপাট,
                           রক্ত-জমাট
শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!
                 ধ্বংস নিশান
উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।

গাজনের বাজনা বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা?
                 কে দেয় সাজা
মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি,
ভগবান পরবে ফাঁসি।
                    সর্বনাশী
শিখায় এ হীন তথ্য কে রে!

ওরে ও পাগলা ভোলা!
দে রে দে প্রলয় দোলা
                  গারদগুলা
জোরসে ধরে হ্যাঁচকা টানে।
মার হাঁক হায়দারী হাঁক,
কাধে নে দুন্দুভি ঢাক
         ডাক ওরে ডাক,
মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!

নাচে ওই কালবোশেখী,
কাটাবি কাল বসে কি?
               দে রে দেখি
ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি।
লাথি মার, ভাঙ্গরে তালা!
যত সব বন্দী শালায়-
                আগুন-জ্বালা,
আগুন-জ্বালা, ফেল্ উপাড়ি।।

কবিতা | মায়াকান্না

| মাসুম মুনাওয়ার | মায়াকান্নায় দরজা খোলে না মনের ঘরে কপাট পড়ে চুপিসারে দুনিয়ার আগুন উল্টো ধরে ভিতর থেকে পুড়তে থাকে প্রতিটি কোষ বাইরে... thumbnail 1 summary

| মাসুম মুনাওয়ার |


মায়াকান্নায় দরজা খোলে না
মনের ঘরে কপাট পড়ে চুপিসারে
দুনিয়ার আগুন উল্টো ধরে
ভিতর থেকে পুড়তে থাকে প্রতিটি কোষ
বাইরের আগুনে শরীর পুড়ে না
ভিতরের আগুনে ক্ষত হয় হৃদয়, পাকস্থলি
বাইরে ভদ্রলোক, সুস্থ স্বাভাবিক
পুড়ে যাওয়া মস্তিস্কে পাগলামি চাপে
মানুষের অস্বাভাবিক আচরণ স্থান পায়
হাতে পায়ে চোখে মুখে এমন কী গুপ্তাঙ্গে
বিকৃত মেজাজে চাটতে থাকে নিজের গুপ্তস্থান
মায়াকান্নায় তবু দরজা খোলে না

গল্প | পরীর স্মৃতি || ছায়াপথ ওয়েবম্যাগ

| মিনহাজ ফয়সল | আজ অভির ভীষণ মন খারাপ। বিষন্ন মন নিয়ে প্রতিদিনের মতো আজও অভি তার বারান্দায় পায়চারি করছে আকাশের তারার সাথে কথা বলতে। ক... thumbnail 1 summary

| মিনহাজ ফয়সল |


স্মৃতি - মিনহাজ ফয়সল

আজ অভির ভীষণ মন খারাপ। বিষন্ন মন নিয়ে প্রতিদিনের মতো আজও অভি তার বারান্দায় পায়চারি করছে আকাশের তারার সাথে কথা বলতে। কিন্তু আজ যেন তারাগুলোও তার সাথে লুকোচুরি খেলছে। এক সময় এই তারারাই ছিলো তার সকল সুখ-দুঃখের সঙ্গী। অথচ আজ তারাও বেঁকে বসেছে। তারারাও আজ অভির উপর মন খারাপ করে আছে। অভির কথায় সাড়া দিচ্ছে না তারা। অভি জানে একদিন কেউ আর তার কথায় সাড়া দিবে না। অপরাধবোধ আজ ভীষণ ভাবে নাড়া দিচ্ছে অভির মনে। স্মৃতিগুলো আজ পেছন তাড়া করছে ভীষণ। কোনভাবেই অভি সেই স্মৃতিগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগুতে পারছে না আর। স্মৃতিচারণেরও সময় হয়ে উঠেনি তার। অথচ আজ সে সেই স্মৃতির পাতাগুলোকে এড়িয়ে যেতে পারছে না কোনোভাবে।

ইদানিং প্রতিটা মুহূর্তে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অভিকে।  বিয়েটা এখনো করা হয়নি কেন তার? বয়স তো কম হল না। পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই করছে। এ প্রশ্নের কোন উত্তর যে তার কাছেও নেই সেটা সে কাউকে বোঝাতে পারে না । কোন অনুষ্ঠানে কিংবা ব্যক্তিগত কাজের কোন মিটিং-এ কোথাও গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে না সে। পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে এই একটা প্রশ্নই কেন আজ অভিকে এতোটা অস্থির করে রাখছে সে তা জানে না। পরিবারের কাছেও সে নিরুত্তর। বিয়ের ব্যাপারে এতো চাপ তার আর ভালো লাগে না ।

মনে পড়ে যায় তার ছাত্রজীবনের কথা। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরই গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করে অভি। কাজের সুবাদে অনেক ছাত্রকেই পড়াতে হতো তার। অনেকটা পেশা হয়েই দাঁড়িয়েছিল প্রাইভেট টিউশনটা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এসএসসি পরীক্ষার্থী পরীকে পড়াতে গিয়েই তার জীবনের মোড়টা ঘুরে গেলো অন্যদিকে। দিন দিন পরির প্রতি দুর্বলতা বাড়তে থাকলো। ধীরে ধীরে অভি বুঝতে পারলো পরীও তাকে ভালবাসে।

যতোই দিন যাচ্ছিলো পরীর প্রতি অভির অনুভূতিগুলো যেন আরো গভীর হচ্ছিলো। বিরামহীন ভালোলাগায় মগ্ন তখন অভি। নিজের ভালোলাগা ভালোবাসার অনুভূতিগুলোকে আরও গভীরভাবে প্রকাশের জন্য একটা সময় অভি কলম হাতে তুলে নেয়। পরীকে তিল তিল করে ভালোবেসে ফেলার সমস্ত প্রকাশ উঠে আসলো তার কলমের আঁচড়ে। পরীকে বোঝানোর সাথে সাথে আরো বেশী করে অনুধাবন করানোর জন্যে কলমটাই বেছে নিয়েছিল অভি। সে তাঁর সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে ভালোবাসতো পরীকে। তার যতো কবিতা লেখা হতো সব পরীকে নিয়ে। দিন যেতে যেতে লেখালেখি যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠলো।
এদিকে পরীর অনেক প্রত্যাশা অভির প্রতি। অভিও সেটা পূরণ করার চেষ্টা করতো। তার যতটুকু সামর্থ আছে ততোটুকু থেকে কখনো বঞ্চিত করেনি অভি; প্রতিটা মুহূর্তে প্রত্যাশা থেকে বেশি কিছুু দেয়ার প্রচেষ্টা থাকতো তার। দিন যাবার সাথে সাথে তাদের সম্পর্ক আরো গভীর হচ্ছিল। সম্পর্কে কোন বাধা আসেনি তখনো। এভাবেই চলছিল তাদের।

একটা সময় অভি লেখালেখি নিয়ে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পরীকে নিয়ে তার লেখাগুলো প্রকাশ হতে থাকলো। এদিকে যাকে নিয়ে তার এই লেখালেখির জগতে আসা, তাকে আগের মতো সময় দেয়া হচ্ছে না অভির। অথচ একটা মুহূর্তের জন্যও মনের অগোচর করতে পাওে না পরীকে। সারাক্ষণ মনে বিরাজ করে তার মনমানসী পরী। তার প্রতিক্ষণের ভাবনা জুড়ে শুধু পরী। কিন্তু সময়ের অভাবে যোগাযোগটা অনেক কমে আসে তাদের। অভিমানী পরী এই কমটুকুও সহজে মনে মেনে নিতে পারেনি। তবুও অভি আর আগের মতো সময় দিতে পারে না তার পরীকে। ধীরে ধীরে অভি লেখক হিসেবে অনেক পরিচিতি লাভ করে; অল্প সময়ে অনেক সুনাম ছড়িয়ে পড়লো অভির। অভি নামটা হয়ে উঠলো  তরুণ লেখক সমাজের এক পরিচিত নাম। খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে।  নাম, যশ,খ্যাতির পাশাপাশি ভক্তের সংখ্যাও বাড়তে থাকলো। সব কিছুর শেষে অভির হাতে আর অবশিষ্ট কোন সময় থাকতো না পরীর জন্য। অথচ এই পরীকে নিয়েই তার যত নাম, যশ, খ্যাতির শুভ সূচনা। এই ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই একটা সময় পুরোটাই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় পরীর সাথে। প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে থাকে পরী। কিন্তু  অভির সান্নিধ্য আর পেল না পরী। প্রচ- অভিমান আর জেদের বশবর্তী হয়ে একটা সময় জীবনের সব থেকে মূল্যবান সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলে পরী।
পরিবারের পছন্দে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যায় পরী। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল অভির জন্যে। অভি আসেনি। নিয়ম মতো সে তার লেখালেখির জগতে মহাব্যস্ত হয়ে থাকে। পরীর ধারনা অভি হয়তো ভুলে গেছে পরী নামটাই।

স্মৃতি - মিনহাজ ফয়সলএকটা সময় সম্বিত ফিরে পায় অভি। সময়ের আবর্তে ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, অভি ভুলে যায়নি তাকে। তার হৃদয় জুড়ে শুধুই পরী। তার প্রতিটা লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র সে; সেই পরীকে কি করে ভুলবে অভি? এদিকে পরী সংসার জীবনে পা রাখলেও পারেনি ভুলে যেতে তার অতীত জীবন। একটা মুহূর্তও থাকতে পারে না অভিকে নিয়ে না ভেবে। জেদ আর অভিমান পরীকে সুখ দিতে পারবে না জেনেও পরী ঐ মুহূর্তে কঠিন সিদ্ধান্তটা নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আজ প্রতিটা মুহূর্তে উপলদ্ধি করে অভির ভালোবাসা। সুখ নামক অলীক বস্তুটি ধরা দেয়নি পরীর কাছে। অভি জানে তার পরী সুখে নেই; তবু তো আছে একজনের ছায়ার নিচে। এ কথা ভেবে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে আজ।

অনেক বছর কেটে গেছে এর মধ্যে; আজও বিয়ে নামক ঐ নৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়নি অভি।
অভির মন আজও পড়ে আছে পরীর কাছে। পরী চলে গেলেও অভি তো মন থেকে আজও পরীকেই ভালোবাসে; মুছে ফেলতে পারেনি পরীর কোন স্মৃতি। কিন্তু আজ অভি সবাইকে বোঝাতে অক্ষম যে সে কেন তার ভালোবাসার স্বাধীনতাটুকু হারাতে চায় না।
সাহিত্য জগতে অভির খ্যতির শেষ নেই। তবু আজও একাকী জীবন যাপন করছে সে। পরীর দেয়া ভালোবাসা আজও লালন করে দিনাতিপাত করছে অভি। বিষণœতায় বিভোর অভি এখন প্রতি রাতে এই বিশাল আকাশের মাঝে তার চির চেনা তারাদের সাথে কথোপকথনে মগ্ন থাকে।
পরীকে ভুলে যেয়ে অভি চায় না আবার নতুন কোন সম্পর্কে জড়াতে; চায় না নতুন কাউকে ভালোবেসে পরীর স্মৃতিটুকু জীবন থেকে মুছে ফেলতে। অভি চায় যতো দিন বেঁচে থাকবে, এভাবে একাকী নির্বিঘ্নে তার মন-মানসীকে ভালোবেসে যেতে।

কবিতা | সৌখিন দরগায় || ছায়াপথ ওয়েবম্যাগ

| মাসুম মুনাওয়ার | বসন্তে যখন রোদ ঠিক মাথার উপর বসে তখন ঝির ঝিরে বৃষ্টি আমার সাজানো কোলে দমকা হাওয়ায় যখন পাতা ঝরে শিকড়ে আমার বাগানে ... thumbnail 1 summary

| মাসুম মুনাওয়ার |

বসন্তে যখন রোদ ঠিক মাথার উপর বসে
তখন ঝির ঝিরে বৃষ্টি আমার সাজানো কোলে
দমকা হাওয়ায় যখন পাতা ঝরে শিকড়ে
আমার বাগানে তখন কলি ফোটে কান্ড গজায়

ফাগুনে আগুন আসে চৈত্র নামে মাঠে
অভাগার তরী ডুবে নাউ বাঁধা ঘাটে
অতপর নদীর পানি স্বাভাবিক বয়ে যায়
বসন্ত এসে দাঁড় বায় সৌখিন দরগায়।

গল্প | মাটির টানে

| খান মেহেদী মিজান | বিনোদপুর গ্রাম। কীর্তিনাশার পাড় ধরে সবুজ বনানীর ছায়া ঘেরা পরিবেশে গ্রামখানি। একসময় কীর্তিনাশার বুকজুড়ে জোয়ার-ভাটার ত... thumbnail 1 summary
| খান মেহেদী মিজান |

বিনোদপুর গ্রাম। কীর্তিনাশার পাড় ধরে সবুজ বনানীর ছায়া ঘেরা পরিবেশে গ্রামখানি। একসময় কীর্তিনাশার বুকজুড়ে জোয়ার-ভাটার তীর ছাপানো প্রমত্ততা থাকলেও নদীটির মোহনা মরে গিয়ে এখন মরাগাঙে রূপ নিয়েছে। তাই কেউ কেউ মরা নদীকে মরাগাংপাড় বলে উল্লেখ করে থাকে। এখানকার মানুষগুলো খুবই সহজ-সরল। কৃষি কাজের মাধ্যমে গায়ে খেটেই জীবিকার সন্ধান করে থাকে। স্থানীয় গয়াতলা হাট বা বাজার নামে সপ্তাহে দুদিন বিকেল বেলা বেচাকেনার পসরা বসে। সেখান থেকেই বাকী কয়দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদাপাতী কিনে থাকে গ্রামবাসী। হাটবার ছাড়া মেহমান এসে পড়লে বাড়িতে পালিত হাঁস-মুরগী ও গাভীর দুধ দিয়েই মেহমানদারী করানো হয়। এছাড়া বাড়ীর আঙিনায় ফলানো ও আশপাশের ক্ষেতের আইল থেকে তুলে আনা শাক-সবজি দিয়েই পেটে ভাত দিতে হয় নিজেদের। তবে বেশ কয়েক বছর যাবৎ এলাকার চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বিদ্যুত সংযোগ পাওয়ায় এবং কিছু লোক মধ্যপ্রাচ্যে থাকার কারণে দুই-এক বাড়ীতে ফ্রিজ এসেছে ইতোমধ্যে। এবং সেসব বাড়ীতে ধরনা দিয়ে প্রতিবেশিরা মেহমানদের জন্য দু’এক পোটলা মাছ-মাংস রেখে দেয়। অবশ্য এজন্য কম গোঙানী শুনতে হয় না।
কিন্তু হাতে গোনা হলেও এখানকার বেশ কয়েকটি পরিবার শিক্ষা-দীক্ষার সুযোগ পেয়ে ঢাকা শহর এবং বিদেশে চাকরী ও ব্যবসা-বানিজ্য করে শিল্পপতি বনে গেছে। রাজধানীতে বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি করে সুখেই জীবন পার করছেন। তবে এদের মধ্যে অনেকেই গ্রামে ফিরে না। কিন্তু তরুণ শিল্পপতি আবদুল  হামিদ সাকিদার দেশ-বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি রেখেও শৈশব স্মৃতি ও মাটির টানে গ্রামে ফিরে আসেন বার বার। এমনকি গ্রামে একটি বিশাল বাগান বাড়িও করেছেন প্রকৃতির নির্মল বাতাস সেবন ও গ্রামের সহজ-সরল মানুষের মাঝে নিজেকে মিলিয়ে বিলিয়ে দেয়ার জন্য। এমনকি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নিন্ম আয়ের মানুষগুলোর ভাগ্যের চাকা কিভাবে ঘুরানো যায়, এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শিক্ষার হার বাড়ানো এবং চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একটি হাসপাতাল ও একটি বৃদ্ধাশ্রম করার পরিকল্পনা তার মাথায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছিল। আর এ ব্যাপারটি তিনি এলাকার সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি মাষ্টার মিজান খানের সাথে আলোচনাও করেছেন। মাষ্টার মিজান খান তার এসব ভালো চিন্তার প্রস্তাবগুলোকে জনকল্যাণ মনে করে সাধুবাদ জানান এবং সুযোগ পেলে নিজেকে সম্পৃক্ত করার আশ্বাসও দিয়েছেন।

হামিদ সাহেব বছরে দুটি ঈদ উৎসবে ছুটে আসেন গ্রামের মানুষের টানে। দু’হাতে বিলাতে থাকেন জামা-কাপড়, খাবার সামগ্রী এমনকি নগদ টাকা। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলি হামিদ সাহেবকে পেয়ে যেন স্বর্গীয় চাঁদকে নিজেদের  মাঝে পেয়েছে। তারাও নিজেদের সরল হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে তাঁকে গ্রহণ করেছে। একসময় সমাজের কিছু স্বচ্ছল সমাজপতিরাও হামিদ সাহেবের কাছে ভিড়তে লাগল। কেউ ভাবল আমরাও কিছু সুযোগ গ্রহণ করিনা কেন। আবার কেউ ভাবে এমন উদার দানশীল ব্যক্তিকে আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি বানাতে পারলে সমাজ উন্নয়নের মুখ দেখত। পিছিয়ে পড়া এ এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, বিদ্যুৎ সহ সকল প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়ায় ঘুরে দাঁড়াত এলকা।
লোকজনের এসব প্রস্তাবিত কানাঘুষো হামিদ সাহেবের কানে পৌঁছে গেল। তাই একটি ঈদে দরিদ্রদের মাঝে অর্থ-সামগ্রী বিতরণের পূর্বে মাষ্টার মিজান খানকে ডাকলেন এবং এসব ব্যাপারে শেয়ার করলেন। অবশ্য এর আগে কোনো  উৎসব ধরে মাষ্টার সাবকে এভাবে ডাকেননি এবং মাষ্টার সাবও এসব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। এতদিন অবশ্য দূর থেকে তার দান করার কথা শুনেছেন, তবে এবার কাছে থেকে নিজ চোখে দেখলেন এলাহীকাণ্ড। জামা-কাপড় ও খাদ্যসামগ্রীর সাথে সুবিধাভোগীরা হামিদ সাহেবকে পটকিয়ে বান্ডেল বান্ডেল কড়কড়া নোট হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে অবশ্য হামিদ সাহেব আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন। কারণ এযাবৎ শহরের যে মানুষগুলোকে খাইয়েছেন দিয়েছেন তারা একবার নিয়ে গেলে ঘুরে এসে সালামটুকু পর্যন্ত দেয় না। আর নিজ এলাকার এসব সহজ-সরল মানুষগুলো বছরের এক ঈদে কিছু পেলে আরেক ঈদ পর্যন্ত গুন-গান গাইতে থাকে। পথে পথে সালাম ঠুকে, জি স্যার-জি স্যার করতে থাকে। এ কি কম পাওয়া! আর আল্লাহ তো তাঁকে অনেক দিয়েছে। ঠিকমত হিসাবে করে যাকাত-ফেতরা দিলেও এলাকার মানুষগুলো অন্তত বছরে দুটি উৎসব ভালোভাবে পালন করতে পারে।
কিন্তু কিছু চতুর লোকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারটি মাষ্টার সাবের কাছে ভালো লাগেনি। তাই তিনি মনে করেন এতে করে গরিবদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছেনা। পরিবার নিয়ে চলার মত আয়-উপার্জনের পথ হচ্ছেনা। তাই এবারের উপকরণ বিলি বন্টনের পর মাষ্টার সাব হামিদ সাহেবের সাথে কিছু পরামর্শ শেয়ার করলেন। অবশ্য এরই মাঝে এলাকাবাসী তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। এতে তিনি জনগণের প্রতি আবেগ-আপ্লুত।
মাষ্টার সাব বয়সে চেয়ারম্যান হামিদ সাহেবের অনেক ছোট হওয়ায় চেয়ারম্যান দাদা বলেই ডাকেন। চেয়ারম্যান সাহেবও মাষ্টারকে ভালোবাসেন ও স্নেহভরে ডেকে থাকেন।
মাষ্টারঃ চেয়ারম্যান দাদা, সুযোগ দিলে আপনার সাথে কিছু বিষয় পরামর্শ করতাম।
চেয়ারম্যানঃ কি বল মাষ্টার, তুমি যেকোনো বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলাপ করতে পার। তো বল কি তোমার আসল কথা?
মাষ্টারঃ বলতে চাচ্ছিলাম যেভাবে মানুষকে দিচ্ছেন, খাওয়াচ্ছেন সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমার পরামর্শ হল শুধু উৎসব ধরে এদের যতই খাওয়ান-পরান এতে এদের সার্বিক ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটছে না।
চেয়ারম্যানঃ তাহলে তুমি বল কিভাবে করলে ভালো হয়।
মাষ্টারঃ এই ধরুন বিভিন্ন এলাকা থেকে হতদরিদ্র লোক বাছাই করে তাদের মধ্যে দৈনিক উপার্জন করার মত কিছু যানবাহন যেমনঃ রিক্সা, ভ্যান জনপ্রতি একটা না হলেও প্রতি দুইজনে একটা করে কিনে দিলে এর মাধ্যমে তারা দৈনিক উপার্জনে সংসার চালিয়ে বাড়তি কিছু সঞ্চয়ও করতে পারবে। আবার দরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি, ভর্তি ও বই-পুস্তকের সুযোগ করে দিলে শিক্ষার হার বাড়বে।অপরাধ কমবে।
চেয়ারম্যানঃ মাষ্টার তোমার পরামর্শ অত্যান্ত সুদূরপ্রসারী। এর আগে এভাবে কেউতো বলেনি! আমি তোমার প্রস্তাবে একমত। এবং তুমি পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকলে আমি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। এতে চেয়ারম্যান হওয়াটা মূখ্য বিষয় নয়। তোমাদের মত শিক্ষিত ভালো মনের মানুষদের নিয়ে সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে চাই।
মাষ্টারঃ আসলে আমি বা আমরা যারা মাষ্টারি করি; মানুষ গড়ার কারিগর বললেও এ স্বল্প আয়ের মানুষদের কেউ সামাজিক কাজে, সালিশ-দরবারে ডাকে না। সে যাই হোক, আপনি ডাকলে ভালো কাজে শরিক হবো।
চেয়ারম্যানঃ আমারও কিছু পরিকল্পনা আছে। বাস্তবায়নও করতে চাই। যা তোমার সাথেও আলাপ করেছি আগে। এ পশ্চাৎপদ জেলায় শিশুদের মানশিক বিকাশে কোনো পার্ক-উদ্যান নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বর্তমান সরকারের বড় উদ্যোগ পদ্মাসেতু নির্মাণ। সেতু নির্মিত হলে এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত টাটকা শাক-সবজী সহ নিজেদের শ্রমও  রাজধানীতে নিয়ে গিয়ে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারবে। তাই আমি একটি এ্যগ্রোফার্ম করার পরিকল্পনা করতেছি যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে করে ঢাকামুখী লোকজন মাটির টানে গ্রামে এসে কাজ করে সাবলম্বী হতে পারবে।
তবে সার কথা তোমার পরামর্শ কাজে লাগিয়ে এবার ঈদের আগেই দরিদ্র পরিবারের মাঝে কিছু রিক্সা-ভ্যান কিনে দিয়ে যাবো। যাতে ঈদে বেড়াতে এসে দেখি তারা উপার্জনের নেমে পড়েছে। এমনকি এলাকার মধ্যে আমি দামী গাড়ীতে না ঘুরে তাদের রিক্সা-ভ্যানে চড়বো এবং ভাড়া মিটিয়ে দেব। এতে তারাও খুশি হবে।
আর শোন মাষ্টার, সরকার একটি বাড়ি একটি খামার ঘোষণা করেছে। এটা বাস্তবায়নে এলাকায় শিক্ষিত মেয়ে ও নারীদের নিয়ে তোমাকে কাজ করতে হবে। আগে দেখেছি মা-চাচীরা বাড়ির আঙিনায়, আশপাশে তরকারী গাছ লাগিয়ে নিজেদের  চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করেছে। আজ এসব সবজি কিনে খেতে হয়। এ অভ্যাস বদলাতে হবে।
মাষ্টারঃ জি, চেয়ারম্যান দাদা, উঠোন বৈঠক ও গ্রাম্য সভায় এসবসহ যৌতুকপ্রথা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গ্রামবাসীকে বুঝাবো এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে উৎকোচ-উপঢৌকন না নিয়ে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার পরামর্শও দিব।

লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও কবি

Sunday, May 29, 2016

চঞ্চলা মেঘেরা | আলমগীর সরকার লিটন

আকাশের কান্না দেখে দেখে ধরণী সাজে কাদামাখা জল দুষ্টমীতে মাতে বাতাসের দল মা বলে, ওরে বাবা ঘরে চল ।। নেমেছে মাঠে সন্ধ্যার ঘোর ঐখানে ... thumbnail 1 summary

আকাশের কান্না দেখে দেখে
ধরণী সাজে কাদামাখা জল
দুষ্টমীতে মাতে বাতাসের দল
মা বলে, ওরে বাবা ঘরে চল ।।

নেমেছে মাঠে সন্ধ্যার ঘোর
ঐখানে টেবিলের উপর
পিতলের নেম্পু খানা
পিদিম পিদিম জ্বলে-
পড়তে বসার কথা বলে
রান্না ঘরে রাধে মা সরিষার
সাথে ইলিশ মাছের ঝোল ।।

এখন স্মৃতির সাগরে ঢেউ
মনের আবেগে বাঁধেনা কেউ
সুখের দিনগুলো হয়েছে যেন
মা-ছেলের দুষ্ট খেলার ছল
কোথায়রে তোর উজ্জ্বল পুঁথি বল
ভয়ঙ্কর মেঘেরা আজ বড় চঞ্চল ।।

শ্যামলী, ঢাকা

Saturday, May 28, 2016

বকুল ফুলের মালা | আফিয়া জেবা

মেয়েটা বকুলতলায় বসে ফুল কুড়োচ্ছিল। পরনে একটা নীল পেড়ে কমলা শাড়ি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে অর্ক দেখছিল মেয়েটাকে। মুখটা দেখা যাচ্ছেনা, খোঁপাটাও এক... thumbnail 1 summary

মেয়েটা বকুলতলায় বসে ফুল কুড়োচ্ছিল। পরনে একটা নীল পেড়ে কমলা শাড়ি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে অর্ক দেখছিল মেয়েটাকে। মুখটা দেখা যাচ্ছেনা, খোঁপাটাও একটু আলগা করে বাঁধা। যার ফলে একটু ঝুঁকে বসায় খোঁপাটা সরে এসে ঢেকে দিয়েছে মুখের বামপাশটা। ভারি মিষ্টি মেয়েটার বসার ভঙ্গিটা। নীল আঁচলটা কোলের মাঝে নিয়ে বাম হাতে আলতো করে সেটা ধরে রেখেছে সে। আর ডান হাতে পরম ভালোবাসায় কুড়িয়ে নিচ্ছে ঘাসের ওপর ছড়িয়ে থাকা বকুল ফুলগুলো। হাত দু’টি ভারী সুন্দর। একটু রোগা, তবে সেই রোগা ভাবটা হাতের সৌন্দর্য কমাচ্ছে না, বরং বাড়িয়ে দিচ্ছে যেন! অর্ক অবাক হয়ে খেয়াল করলো, মেয়েটার হাতের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একজোড়া শাঁখা-পলা। মেয়েটা বিবাহিতা!
‘কার জন্য বকুল কুড়োচ্ছে সে? প্রিয়তম স্বামীর জন্য? রাতের বেলা বুঝি চুপটি করে স্বামীর বালিশের ওপর ছড়িয়ে দেবে সে ফুলগুলো?’ এসব কথা কথা মাথা থেকে বের করার চেষ্টা করে অর্ক। আবারো মনোযোগ দেয় মেয়েটার দিকে। মেয়েটার বসার ভঙ্গিটা খুব চেনা। ঠিক এভাবেই বসে একজন বকুল কুড়োত এখান থেকে। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে, ঠিক যেন লক্ষ্মী বসে বকুল কুড়োচ্ছে!
লক্ষ্মী! তার লক্ষ্মী! হ্যাঁ, সেইতো এভাবে বসে বকুল কুড়োত। তারা দু’জন কোন এক শান্ত বিকেলে এখানে এসে বসতো, ঠিক ঐ বকুল গছটার নিচে, লক্ষ্মী বসতো গছের গোড়ায় হেলান দিয়ে। তখন লক্ষ্মীর কোলে মাথা রেখে অর্ক শুয়ে পড়তো নরম ঘাসের ওপর। লক্ষ্মী তার সুন্দর আঙ্গুলগুলো দিয়ে বিলি কেটে দিত অর্কর মাথায়। মাঝে মাঝে একটু ঝুকে কপালে একটা চুমো দিত। তরপর... অর্ক লক্ষ্মীর মাথাটা টেনে নিত কাছে। খুনসুটিতে তারা পার করত বেশ খানিকটা সময়। হঠ্যাৎ কোথাও একটা শব্দ- তারা দু’জন সচকিত হয়ে সামলে নিত নিজেদের। লক্ষ্মী তাগাদা দিতো, ‘এই, অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, এবার উঠবে না?’ খানিকটা গড়িমসি করে অর্ক উঠতো, লক্ষ্মীর হতটা ধরে টান দিয়ে বলতো, ‘চলো, যাই।’ লক্ষ্মী তখন আস্তে করে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলতো, ‘একটু দাঁড়াও না! কত্তগুলো বকুল ফুল সামনে পড়ে আছে, ক’টা কুড়িয়ে নিয়ে যাই...’ বলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তো বকুল কুড়োতে, ঠিক ওভাবে... যেভাবে ওই মেয়েটা কুড়োচ্ছে...।
চমক ভাঙ্গলো অর্কর। মেয়েটার বকুল কুড়োনো শেষ! তার আর লক্ষ্মীর বকুলতলায় বকুল কুড়োনো শেষ করেছে মেয়েটা।
লক্ষ্মী বলতো, ‘জানোতো, এই গাছটা না আমাদের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। কি সুন্দর ফুলের গালিচা বানিয়ে রাখে আমাদের জন্য! আমি-তুমি সেই গালিচায় বসি, ফুলও নিয়ে যায়। একদিনও এই বকুলগাছ আমায় খালি হাতে ফিরতে দিয়েছে বলো?’
তখন সে লক্ষ্মীর চিবুকটা ধরে পরম ভালোবাসায় বলেছে, ‘বকুলগাছটাও যে আমার অপরূপা লক্ষ্মীর পেমে পড়ে গেছে গো! ভারী হিংসে হয় আমার ওকে!’
লক্ষ্মী তখন কপট রাগে বলেছে, ‘হ্যাঁ, তুমি হিংসে করা ছাড়া আর কিছু করতে জানো নাকি?’
‘জানি না?’
‘একটুও না!’
‘বেশ, দাড়াও, দেখাচ্ছি আমি কিছু জানি কি না...!’ বলেই সে লক্ষ্মীকে বাহুডোরে জড়িয়ে টেনে নিত নিজের মাঝে। ভালোবাসায় সিক্ত হতো দুজনে। কিছুক্ষণ পরে তৃপ্ত মুখটা লুকোত লক্ষ্মী অর্কর বুকের মাঝে। হঠ্যাৎ যেন নিজের বুকে লক্ষ্মীর স্পর্শ অনুভব করলো অর্ক। অস্ফুটে মুখ থেকে বেরিয়ে এলো ‘লক্ষ্মী!’
কোথায় লক্ষ্মী? কোথাও তো নেই সে।
মেয়েটার দিকে আবার তাকায় অর্ক। মেয়েটা কি করে যেন বারবার তাকে আকর্ষণ করছে! কি অদ্ভুত! মেয়েটার খোঁপা খুলে গেছে। মুখের বাম পাশটা সম্পূর্ণ ঢেকে গিয়ে চুল গড়াচ্ছে মেয়েটার কোলের ওপর। সে এখন বসে বসে মালা গাঁথছে। সুঁই-সুতো নিয়েই এসেছিলো নাকি? মেয়েটাকে ভীষণ রহস্যময়ী মনে হয় অর্কর। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে মেয়েটাকে বলে, ‘এত সাহস কেন তোমার? কে তুমি? আমার লক্ষ্মীর জায়গা কেন নিচ্ছ তুমি?’
আশ্চর্য! মেয়েটা বসেছেও লক্ষ্মীর মতো করে। আচ্ছা, লক্ষ্মী কি তবে ফিরে এসেছে? না, না! সে কি করে ফিরে আসবে? একটুখানি এগোয় অর্ক। আবার থামে। আবার এগোয়। লক্ষ্মীর জায়গা সে অন্য কাউকে কেন দেবে? ওখানে, ওই বকুলতলাতে শুধু লক্ষ্মী-ই বসবে, ফুল কুড়োবে, মালা গাঁথবে।
অন্যকেউ কেন বসবে সেখানে? বৃন্দাও তো জানে জায়গাটার কথা। আসতেও চেয়েছে কতবার। কই, সে তো বৃন্দাকে আনেনি এখানে। আর সপ্তাহখানেক পরে বৃন্দা তার স্ত্রী হবে, তবুও তো অর্ক বৃন্দাকে এই বকুলতলার ঠিকানা দেয়নি। কেনই বা দেবে? এ জায়গাটা শুধু লক্ষ্মীর। শুধু তার লক্ষ্মীর। একদিন এক পুকুরপাড়ে বসে একে অন্যকে অনেকটা ভালোবেসেছিল ওরা। তখন অর্কর জীবনে বৃন্দা ছিলনা। অর্কর সবটুকু জুড়ে তখন একজনই। তাকে বুকে জড়িয়ে রেখেছিলো অর্ক। অনেকটা সময়। তারপর সে যখন মুখ তুলল, খুব ধীরে, অর্কর বুকের ভেতর থেকে, এক নজর দেখেই অর্ক তার কপালের নীল টিপটার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল! তার গাল দু’টো আলতো ধরে অর্ক বলেছিলো, ‘তুমি আমার লক্ষ্মীটি’। সে মৃদু হেসে অর্কর চোখে চোখ রেখে বলেছিল, ‘লক্ষ্মীটি না গো, লক্ষ্মী। শুধু তোমার লক্ষ্মী...’।
শেষ ক’টা দিন ওই নামটাই আঁকড়ে ছিলো সে। লক্ষ্মী। অর্কর লক্ষ্মী। এখন তার কি হয়েছে,তা অর্ক জানে না। লক্ষ্মী কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই সে জানে না।
মেয়েটা গাছের গোড়ায় হেলান দিয়ে বসে মালা গাঁথছে। একরাশ কালো চুলের আড়াল তাকে আরোও রহস্যবৃতা করে তুলেছে। অর্ক আরও একটু এগোয়। হাতে থাকা বিয়ের কার্ডটা আরও একটু শক্ত করে ধরে সে। তাকায় কার্ডটার দিকে। তার আর বৃন্দার বিয়ের কার্ড। বৃন্দাকে সে চেনে অনেকদিন ধরে। বৃন্দা তাকে খুব ভালোবাসে, এটা সে জানে। আচ্ছা, বৃন্দা কি তাকে লক্ষ্মীর থেকেও বেশি ভালোবাসে? কিন্তু সে তো বৃন্দাকে ভালোবাসে না। সে ভালোবাসত লক্ষ্মীকে। এখনো ভালোবাসে। তবে বৃন্দার কাছে সে কৃতজ্ঞ। বৃন্দা তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। বেঁচে থাকার ইচ্ছে ফিরিয়ে দিয়েছে, যে ইচ্ছেটা কি না চলেগিয়েছিল লক্ষ্মীর সাথে সাথেই...!
বিয়ের কার্ডটা সে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। সবাইকে দেখাতে হবে। ডিজাইনটা বৃন্দার পছন্দে নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে দেখিয়ে বৃন্দার কাছে নিয়ে যেতে হবে কার্ডটা। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে এই বকুরতলার ডাক যে অর্ক উপেক্ষা করতে পারলো না। কে যেন তাকে ডাকলো, ‘এসো, অর্ক... এসো... একবারটি দেখে যাও!’
দেখতেই তো এসছিল সে। তার লক্ষ্মীর জায়গাটা দেখতে এসেছিল সে। কিন্তু এই মেয়েটা তার লক্ষ্মীর জায়গাটা দখল করে বসে আছে। আবারো মনের ভেতরে কে যেন বিদ্রোহ করে ওঠে, ‘না! এ জায়গাটা শুধুই লক্ষ্মীর। আর কারো না.. আর কারো না... কখ্খনো না!’
শেষ বিদায়ের দিনটাও তো অর্ক আর লক্ষ্মী এই বকুলতলাতেই কাটিয়েছে। সেদিন লক্ষ্মী একটা লাল-হলুদ শাড়ি পরেছিলো। লক্ষ্মী কখনো এক রঙা শাড়ি পরতো না রঙের প্রতি লক্ষ্মীর ভালোবাসাটাই ছিল অন্যরকম। শেষ দিনটাতেও এই বকুল তলাতেই বসেছিল ওরা। তবে মুখোমুখি। একে অন্যকে ভালোবেসেছিল অনেকটা। লক্ষ্মীর হাত দু’টো অর্ক টেনে নিয়েছিল নিজের হাতের মধ্যে। তার অস্থিরতা দেখে অভয়ের হাসি হেসে লক্ষ্মী বলেছিল, ‘তুমি এমন করছো কেন গো? মামাতো বনের বিয়েতেই যাচ্ছি তো, নিজের বিয়েতে না! বিয়েটা মিটে গেলেই আমি ফিরে আসবো। তোমায় খবর দিলে আমার সাথে এই বকুলতলায় এসে দেখা করো, কেমন?’
মাথা নেড়ে সায় দিয়ে লক্ষ্মীকে দু’হাতে জড়িয়ে ওর বুকে মুখ লুকিয়েছিল অর্ক। অস্ফুটে শুধু বলেছিলো, ‘আমার কাছে আবার ফিরে এসো লক্ষ্মী..।’ লক্ষ্মীও তার মাথায় একটা চুমো খেয়ে বলেছিলো, ‘আসবো তো অর্ক। আবার তোমার কাছেই ফিরে আসবো।’
মিথ্যে বলেছিলো লক্ষ্মী। সে তো আর ফিরে আসেনি। অনেকদিন অপেক্ষার পর লক্ষ্মীর এক বান্ধবীর কাছে সে খবর পেয়েছিল, তার লক্ষ্মীর নাকি বিয়ে হয়ে গেছে! প্রথমটাই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনি সে। ‘তার লক্ষ্মী এখন অন্য কারো স্ত্রী! তার লক্ষ্মী!’ সে তখন পাগলের মতো খুঁজেছিল তার লক্ষ্মীকে। অনেক চেষ্টার পরে একদিন লক্ষ্মীর ছোট বোনটার সাথে যখন সে দেখা করলো, তখন মেয়েটা তাকে বললো, ‘দিদি বিয়ে করতে চায়নি। সম্ভবত তোমাদের বিষয়টা আমাদের পরিবারে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। হঠ্যাৎ করেই বাবা আমাদের মামাতো বোনের বিয়ের আসরেই দিদির বিয়ে দিয়ে দেন। দিদি আমাকে বলেছিলো তোমার কথা। খুব কষ্ট পেয়েছে দিদি। খুব কষ্ট পেয়েছে...’ অর্কর দু’চোখে তখন নিকষ আঁধার। পায়ের নিচ থেকে মাটিটা যেন সরে যাচ্ছিল ওর। একবারও জিজ্ঞেস করা হলো না, লক্ষ্মী কোথায় আছে?
‘কেন এমন হলো? লক্ষ্মীর সিঁথিতে তো আমারই সিঁদুর পরাবার কথা ছিলো। তবে?’ নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে অর্ক, ‘লক্ষ্মী তো শুধু আমারই লক্ষ্মী, তাই না? তাহলে কেন এমন হলো? কেন লক্ষ্মী অন্য কারো হয়ে গেল?’
হঠ্যাৎ খেয়াল হতে অর্ক দেখে, ওর গাল দু’টো ভিজে গিয়েছে! সামনেই তো আছে সেই বকুল গাছ। ‘আজ এসব কথা কেন ভাবছি আমি? কি হবে এসব ভেবে?’
‘লক্ষ্মী তো আর ফিরে আসবেনা। ও তো এখন অন্য কারো ঘর আলো করে আছে। আচ্ছা, ওর স্বামী ওকে কি বলে ডাকে?’ জানতে বড় ইচ্ছে করে অর্কর... হঠ্যাৎ বৃন্দার মুখটা ভেসে ওঠে অর্কর চোখে। প্রচন্ড এক চাবুক খায় সে! ‘এসব আমি কি ভাবছি? আমি এখনো লক্ষ্মীর কথা ভাবছি জানলে তো বৃন্দা কষ্ট পাবে।’
ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েও থমকে দাঁড়ায় অর্ক। ‘কী এমন ক্ষতি হবে এখন লক্ষ্মীর কথা ভাবলে? চুপি চুপি যদি আমি সারাটা জীবন ওকে ভালোবেসে যাই, দোষ কী তাতে? ভালোবাসা কি পাপ নাকি?’ ঘাড় ঘুরিয়ে সে ফিরে তাকায় বকুল তলায় বসে থাকা মেয়েটার দিকে। এখনো একমনে মালা গাঁথছে সে। তার দিকে বেশ খানিকটা এগোয় অর্ক। মেয়েটা টের পায়না। এখনো মেয়েটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। অথচ সে মেয়েটার বেশ কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। হঠ্যাৎ মেয়েটা চমকে উঠে সুঁই-সুতো আর অর্ধেক গাঁথা মালাটা ফেলে দেয় হাত থেকে। ‘কি হলো হলো মেয়েটার?’ বাম হাতের একটা আঙ্গুল চেপে ধরে ঝুঁকে পড়ে মেয়েটা।
‘ইস্! বেচারির বোধহয় আঙ্গুলে সুঁই ফুটে গেছে।’ মেয়েটা ঝুকে পড়েছে অনেকটা। একটু ফোঁপাচ্ছে। তার শরীরের কেঁপে কেঁপে ওঠা দেখে টের পাওয়া যাচ্ছে বিষয়টা। ‘মেয়েটার নিশ্চয় খুব যন্ত্রণা হচ্ছে..’ ভাবে অর্ক। পায়ে পায়ে এবার সে এসে দাঁড়ায় মেয়েটার সামনে। নরম গলায় জানতে চায়, ‘আপনার কি খুব লেগেছে?’ জবাবে মেয়েটা ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকায় অর্কর দিকে।
সেই সুগঠিত কপাল, সেই ঘন কালো দু’টি চোখ। সেই আরক্ত কপোল, একটুখানি চাপা নাক, ভীরু দুটি ঠোঁট, আর... আর ঠোঁটের ডান পাশে একটা ছোট্ট তিল। এতো সেই মুখ!
ভয়ানক চমকে ওঠে অর্ক। কার্ডটা পড়ে যায় ওর হাত থেকে। এ যে সেই লক্ষ্মী! সিঁথিতে কেবল একটা রক্তিম রেখা, তাছাড়া সব এক!
‘লক্ষ্মী... তুমি!’ উত্তেজনায় তখন কাঁপছে অর্ক। অর্কর দিকে একভাবে চেয়ে, শান্তমুখে একটা আলতো হাসি ফুটিয়ে, লক্ষ্মী ধীর গলায় জিজ্ঞেস করে, কেমন আছো অর্ক?

aanzumzeba@gmail.com

Friday, May 27, 2016

মোনালিসা | দিপু প্রামাণিক

তুমি আমায় এতো ভালোবেসেছো! তবুও কেন এতো দূরে থেকেছো? তুমি আমায় হৃদয়-মনে রেখেছো, তবুও কেন এতো দূরে রেখেছো? তুমি আমায় এতো কাছে চেয়েছো ... thumbnail 1 summary

তুমি আমায় এতো ভালোবেসেছো!
তবুও কেন এতো দূরে থেকেছো?
তুমি আমায় হৃদয়-মনে রেখেছো,
তবুও কেন এতো দূরে রেখেছো?

তুমি আমায় এতো কাছে চেয়েছো
তবুও কেন কভু কাছে ডাকোনি?
তুমি আমায় এতো পেতে চেয়েছো
তবুও কেন কভু কাছে আসোনি?

তুমি আমায় এতো আপন ভেবেছো
তবুও কেন কভু মুখে বলোনি?
তুমি আমায় দূর থেকে দেখেছো
তবু কেনো কাছে এসে দেখনি?
তুমি আমায় এতো স্বপ্ন দেখেছো
তবুও কেন স্বপ্ন সত্যি করনি?



তুমি আমায় এতো কল্পনা করেছো
তবুও কেন কল্পনা বাস্তব ভাবনি?

নবাবগঞ্জ, ঢাকা

জসীম উদদীন-এর কবিতা | পল্লী বর্ষা

আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে, কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে। কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়, ছোট ছ... thumbnail 1 summary

আজিকের রোদ ঘুমায়ে পড়িয়া ঘোলাট-মেঘের আড়ে,
কেয়া-বন পথে স্বপন বুনিছে ছল ছল জল-ধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব-শাখে নিঝ্ঝুম নিরালায়,
ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে অস্ফুট কলিকায়!
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে হেসে কুটি কুটি হয়,
সে হাসি তাহার অধর নিঙাড়ি লুটাইছে বনময়।
কাননের পথে লহর খেলিছে অবিরাম জল-ধারা
তারি স্রোতে আজি শুকনো পাতারা ছুটিয়াছে ঘরছাড়া!
হিজলের বন ফুলের আখরে লিখিয়া রঙিন চিঠি,
নিরালা বাদলে ভাসায়ে দিয়েছে না জানি সে কোন দিঠি!
চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায় জনহীন বন বাটে,
না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া কার কেয়া-বন ঘাটে!
কোন্ সে বিরল বুনো ঝাউ শাখে বুনিয়া গোলাপী শাড়ী, -
হয়ত আজিও চেয়ে আছে পথে কানন-কুমার তারি!
দিকে দিগেনে- যতদূর চাহি, পাংশু মেঘের জাল
পায়ে জড়াইয়া পথে দাঁড়ায়েছে আজিকার মহাকাল।

কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা | এক আল্লাহ জিন্দাবাদ

উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ;  আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।  উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ,... thumbnail 1 summary


উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ; 
আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ। 
উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ, 
আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ। 

উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদি দরজা চাই; 
নিত্য মৃত্যু-ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই! 
ওরা মরিবেনা, যুদ্ব বাধিঁলে ওরা লুকাইবে কচুবনে, 
দন্তনখরহীন ওরা তবু কোলাহল করে অঙ্গনে। 

ওরা নির্জীব; জিব নাড়ে তবু শুধূ স্বার্থ ও লোভবশে, 
ওরা জিন, প্রেত, যজ্ঞ, উহারা লালসার পাঁকে মুখ ঘষে।

জাকির আবু জাফর-এর কবিতা | এই হাতে হাত তুলে দাও

কুয়াশা সরায়ে আনো জোছনা মিছিল এই হাতে হাত তুলে দাও রাতের দেয়াল ভেঙে জাগাব সকাল তার আগে নিজেদের স্বপ্ন জাগাও। মরে যাওয়া স্বপ্নকে টেনে ... thumbnail 1 summary
কুয়াশা সরায়ে আনো জোছনা মিছিল
এই হাতে হাত তুলে দাও
রাতের দেয়াল ভেঙে জাগাব সকাল
তার আগে নিজেদের স্বপ্ন জাগাও।

মরে যাওয়া স্বপ্নকে টেনে তোল আজ
আশা দিয়ে রুয়ে দাও তাকে
পরমাণু শক্তির পৃথিবী দেখুক
স্বপ্নরা জেগে ওঠে সাহসের ডাকে।

সাহসের হাত ধরে হাঁটে ইতিহাস
হেঁটে যায় ক্রমাগত স্মৃতির নদী
ফিরে যায় জগতের ধারা উপধারা
ফেলে আসা সেই পথে শেষ অবধি।

তবুও জাগাতে হবে জীবনের ঘুম
কেননা সকাল আসে পাখিদের গানে
কেন না নদীর বুক ভেঙে নেয় ঢেউ
এখনো যে ফুল ফোটে বাগানে বাগানে।

সাহসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে যে
বিজয় পড়েছে নুয়ে পদতলে তার
সময়কে টেনে নিয়ে হাতের মুঠোয়
ইতিহাস লিখে যাবে পৃথিবী আবার।

কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা

চল চল চল চল চল চল! ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল নিম্নে উতলা ধরণি তল, অরুণ প্রাতের তরুণ দল চল রে চল রে চল চল চল চল।। ঊষার দুয়ারে হান... thumbnail 1 summary

চল চল চল


চল চল চল!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণি তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল রে চল রে চল
চল চল চল।।

ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।

নব নবীনের গাহিয়া গান
সজীব করিব মহাশ্মশান,
আমরা দানিব নতুন প্রাণ
বাহুতে নবীন বল!

Thursday, May 26, 2016

হারিয়ে যাওয়া সেই পাখিটি

রিজওয়ানা সাবরীন মন আলয়ে বদ্ধ দ্বারে কোন সে কোকিল কড়া নাড়ে? এই পাখি যে দুষ্ট অতি যা আবেগের পরিণতি। পাখির ডাকে মনের টানে, দেই খুলে দ... thumbnail 1 summary

রিজওয়ানা সাবরীন


মন আলয়ে বদ্ধ দ্বারে
কোন সে কোকিল কড়া নাড়ে?
এই পাখি যে দুষ্ট অতি
যা আবেগের পরিণতি।

পাখির ডাকে মনের টানে,
দেই খুলে দ্বার খুব গোপনে।
সুমধুর সেই পাখির গানে,
পুষ্প ফোটে মন বাগানে।
ফুলের ঘ্রাণে মন ভারে যায়,
মন অনাবিল স্বপ্নে হারায়।

স্বপ্নটাকে ছুটি দিয়ে,
ফিরে এলাম নিজ আলয়ে।
সেই পাখিটি কই হারালো?
দুঃখ এসে মন ভরালো...


লেখক: শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা

Wednesday, May 25, 2016

লাইলাতুল বরাতের রূপালি আলোয়

এবিএম মাহাবুবুল ইসলাম লাইলাতুল বরাতের রূপালি আলোয় কৈশোরের খুশিতে রাত জেগে রই সালাতে জিকিরে রহমত যাচি প্রভু তোমারই কাছে। আলো... thumbnail 1 summary

এবিএম মাহাবুবুল ইসলাম


লাইলাতুল বরাতের রূপালি আলোয়
কৈশোরের খুশিতে রাত জেগে রই
সালাতে জিকিরে
রহমত যাচি প্রভু তোমারই কাছে।
আলো-আঁধারে বেহেশতি খুশবুর রাতে,
কিশোরির ডাগরচোখের মুনাজাতে
                               স্বপ্ন জাগে।
ঘর্মাক্ত গৃহিনীর শতব্যস্ততায়
উনুনের আঁচে অধরখানি তার
বেগুনি রঙে রঙে আদর ছুঁতে চায়।

Tuesday, May 24, 2016

ভূতু মামা

আসিফ   আদিত্য আমাদের ভূতু মামার বড় ভয় ভূতেতে তার চেয়ে বড় ভয় মোর কাতুকুতুতে। কিন্তু এ কীযে হলো ভূতু মামা পাল্টে... thumbnail 1 summary
আসিফ আদিত্য

আমাদের ভূতু মামার
বড় ভয় ভূতেতে
তার চেয়ে বড় ভয়
মোর কাতুকুতুতে।

কিন্তু এ কীযে হলো
ভূতু মামা পাল্টে গেলো।
কোথাকার ভূত নাকি
বলে গেলো কথা বাকি।

এসে বলে ভূত তুমি
লিখ খুব অল্প
পারো নাকো লিখতে
ভূতেদের গল্প।

ফুঁ

জাকির সোহান ১. টোকাইরা যেখানে টিচার হন ভিসিরা সেখানে মাফিয়া ডন! ২. তোরা কি ভাই জানিস মিচকা শয়তান পুলিশ? ৩. হিম্মতওয়ালা আসো... thumbnail 1 summary

জাকির সোহান


১.
টোকাইরা যেখানে টিচার হন
ভিসিরা সেখানে মাফিয়া ডন!

২.
তোরা কি ভাই জানিস
মিচকা শয়তান পুলিশ?

৩.
হিম্মতওয়ালা আসো ঢাকা
নইলে ভাই যাবে না টেকা!

৪.
পুলিশ ছাড়া দেশে আর
অল্প বেতনে জীবন কার?

৫.
জনতা নেহি মানে আপকা নেতা
কিসের লাগি মিয়া এতো কথা?

৬.
রক্ষী বাহিনী আর র‌্যাব
দু’য়ের মাঝে নাই গ্যাপ!

সেই আষাঢ়ের গোয়েন্দারা

আসিফ   আদিত্য ঘুট-ঘুটে অন্ধকার। তার মাঝ দিয়ে হাঁটছে আমাদের বালকদের একটি দল। কার আগে কে যেতে পারে, এই আমাদের প্রতিযোগিতা। আমাদের সবার ... thumbnail 1 summary
আসিফ আদিত্য

ঘুট-ঘুটে অন্ধকার। তার মাঝ দিয়ে হাঁটছে আমাদের বালকদের একটি দল। কার আগে কে যেতে পারে, এই আমাদের প্রতিযোগিতা। আমাদের সবার গন্তব্য গোঁসাইদের আম বাগান। সন্ধ্যা বেলা আচমকা কাল বৈশাখী ঝড়।
সবার যখন মুখ কালো তখন আমাদের বালকদের নাচানাচি দেখে কে! আর তখনি  আমাদের ছোট দলটা ছুট দিলো আম বাগানের দিকে। কোথাও বিশ্রাম নেওয়ার ফুসরত নেই । বাগানটাও আনেক দূরে। আবার থেকে থেকে বাজ পড়ছে। পথ ভাঙ্গা ডালপালা আর ঝোপঝাড়ে ভরা। তার উপর কাঁচা রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে। ঠিকভাবে হাঁটা পর্যন্ত মুশকিল হয়ে পড়ছে।